বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শুরু হলো ভোটের মহারণ

দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস, মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত
  • আপলোড তারিখঃ ২২-০১-২০২৬ ইং
শুরু হলো ভোটের মহারণ

একের পর এক ধাপ পেরিয়ে অবশেষে প্রার্থীরা হাতে পেয়েছে দলীয় প্রতীক। এর মাধ্যমে ভোটের মাঠে বেজে উঠল বাঁশি। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচার শুরুর মাধ্যমে পুরোদেশ মেতে উঠবে নির্বাচনী লড়াইয়ে। দেশের প্রতিটি আসনে শুরু হয়েছে ভোটের উৎসব। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অগ্নিপরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশ পুনরায় যাত্রা শুরু করবে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি সংসদীয় আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৭২ জনে। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী আছেন ২৮৫টিতে। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আছেন ২৪৩টি আসনে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। একই দিন হবে গণভোট। পাবনা ১ ও ২ আসনের তফসিল অনুযায়ী, আসন দুটিতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় আছে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।


বিভিন্ন জনমত জরিপের পূর্বাভাস বলছে, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নির্বাচনে আসন সমঝোতা করেছে বিএনপি। যে আসনগুলোতে ধানের শীষের প্রার্থী নেই, সেগুলোতে সমঝোতার ভিত্তিতে শরিকদের প্রার্থী রাখা হয়েছে। আবার অনেক আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭৯ আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ ৯২ জন, আর জামায়াতের রয়েছেন মাত্র একজন বিদ্রোহী প্রার্থী। সারাদেশেই এখন বইছে নির্বাচনের দমকা হাওয়া। এই নির্বাচনী উৎসবমুখরতার পাশাপাশি শঙ্কা রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও। এ জন্য অনেক প্রার্থী ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে ইসির কাছে আবেদনও করেছেন। অনেককে দেওয়া হয়েছে সরকারি গানম্যানও। তবে সরকারি তরফে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে একগুচ্ছ কর্মপরিকল্পনা। এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৩০০ আসনেই মোতায়েন থাকবে সামরিক বাহিনী। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনও কঠোর অবস্থানে নির্বাচনী মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছে।


নির্বাচনী যুদ্ধে জয়ী হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যেই তাদের কৌশল চূড়ান্ত করেছে। ভোটারদের মন জয় করতে আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামবেন রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত করে এনেছে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারে নামতে দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সফরসূচিও চূড়ান্ত করেছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান সিলেট থেকে তার নির্বাচনী প্রচার কাজ শুরু করবেন। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন দুটি জোটের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ দুই জোটের বাইরে দলগতভাবে সর্বোচ্চ প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর বাইরে এবারের নির্বাচনে সর্বাধিক ২৭৪ জন স্বতন্ত্রপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সংখ্যাগত দিক থেকে এবার সর্বাধিক ৫১টি রাজনৈতিক দল ভোটের লড়াইয়ে রয়েছে। তবে অধিকাংশ দল জোটে যুক্ত হওয়ায় এবারের লড়াই দ্বিমুখী হওয়ার আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে ভোটের মাঠে এই দুই দলের নেতা ও প্রার্থীদের বিভিন্ন বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।


প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচার চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একইদিন আলাদা ব্যালটে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচন পরিচালনায় ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন। এবারের নির্বাচনে দুটি বড় রাজনৈতিক দল জোটগতভাবে অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৯ দলীয় জোট এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। এর বাইরে জাতীয় পার্টি (জাপা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল ভোটের মাঠে রয়েছে। সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবং ইসি কর্তৃক নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।


আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় এবার জোটগতভাবে থাকায় এবার জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও জোটের শরিকরা নিজ দলের প্রতীকেই ভোট করছেন। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে আবার অনেকেই দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ২৯২ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আপিল করেও হেরে যান বিএনপির চারজন প্রার্থী। তাই এখন পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীকের বৈধপ্রার্থী সংখ্যা ২৮৫। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রয়েছেন ২৪৩ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা মার্কায় ২৬৬ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৬ জন, স্বতন্ত্রপ্রার্থী ২৭৪ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ২৭ জন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কাস্তে প্রতীকে ২০ জন।


মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু :
বুধবার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, বুধবার মধ্যরাত থেকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সর্বমোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। সেই সঙ্গে হিজড়া গোষ্ঠীর মধ্যে ভোটার হয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ২৯৮ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে ঢাকা-১২ আসনে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫ জন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী পিরোজপুর-১ আসনে। এছাড়া দেশের ৩১টি আসনে ১০ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ফলে, এসব আসনে ভোটের মাঠে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, প্রার্থী যত বেশি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তত বেশি হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য একীভূত করে বুধবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুর-১ আসনে এবার মাত্র দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। একজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাসুদ সাঈদী, অন্যজন বিএনপির আলমগীর হোসেন। কম প্রার্থী হলেও এ আসনে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রার্থী রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে, যেখানে লড়ছেন ১৩ জন।


হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস:
দেশের বেশ কয়েকটি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের যেসব আসনে লড়াই করতে হচ্ছে, সেখানে প্রার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে ১০ জন এবং বগুড়া-৬ আসনে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে সাতজনের সঙ্গে লড়বেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে আটজন প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। স্বতন্ত্রপ্রার্থী তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসনে ১১ জনের সঙ্গে এবং বিএনপির আব্দুল আউয়াল মিণ্টু ফেনী-৩ আসনে সাতজনের সঙ্গে লড়বেন। এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪ আসনে চারজনের সঙ্গে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাসসহ ১০ জনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


এছাড়া ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. মামুনুল হক, ঢাকা-১ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-২ আসনে আমানুল্লাহ আমান এবং বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী লড়বেন ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে মোকাবিলা করতে হবে মাত্র তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরকে জয় পেতে সাতজন বৈধপ্রার্থীকে হারাতে হবে।


কিছু আসনে লড়াই কম হবে বলে দেখা যাচ্ছে। তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই, কারণ ঋণখেলাপির কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ফলে, এ আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলকভাবে কম হবে। কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর জয়লাভের পথ কিছুটা সহজ হয়ে গেছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী হাইকোর্টে প্রার্থিতা পুনর্বহালের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর এবং কুমিল্লা-১০ আসনে আবদুল গফুর ভুইয়ার মনোনয়নপত্রও বাতিল করেছে ইসি। ফলে, এ তিনটি আসনে জামায়াত জোট প্রথম থেকেই এগিয়ে রয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মানলেন আবু সাঈদ