চুয়াডাঙ্গায় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল চারটায় লিগ্যাল এইড অফিসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম। লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আরও ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় বিপুলসংখ্যক অসহায় ও দুস্থ বিচারপ্রার্থী রয়েছেন, যাদের অনেকেই লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনা খরচে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে অবগত নন। এই সুযোগগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগী হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমার আপনার লক্ষ্য একটাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তাই সবাই যদি সমন্বিতভাবে কাজ করি, তাহলে লিগ্যাল এইডের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। এর মাধ্যমে বহু অসহায় ও দুস্থ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন। কোনো ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে তা সীমাবদ্ধতার মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’
বক্তব্যে তিনি সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সরকার এ খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুগোপযোগী পরিবর্তন এনেছে। ফলে এখন লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম পরিচালনা আগের চেয়ে অনেক সহজ ও কার্যকর হয়েছে। সভাপতি তার বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জেলায় বছরে ২ হাজার ২২৬টি বিয়ের বিপরীতে ২ হাজার ১৭৭টি তালাক হয়েছে, যা অত্যান্ত উদ্বেগজনক। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণেই অনেকেই দ্রুত তালাকের পথ বেছে নিচ্ছেন এবং চুয়াডাঙ্গায় তালাক যেন সহজলভ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, সংসার ভেঙে ফেলা সহজ, কিন্তু ভাঙনের আগে কীভাবে সংসার টিকিয়ে রাখা যায়, সেই চেষ্টাই আমাদের বেশি করা উচিত। এ ক্ষেত্রে উভয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে লিগ্যাল এইডের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন সভাপতি।
সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আইনগত সহায়তা চেয়ে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মোট ৭৩টি আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া ১৮ জন আইনজীবীর বিল দাখিল করা হলে কোনো আপত্তি না থাকায় তা অনুমোদন করা হয়। নতুন দুজন প্যানেল আইনজীবী অ্যাড. ফরজ আলী ও অ্যাড. রফিকুল আলম রাণ্টু আবেদন করায় সভার সদস্যদের সম্মতিক্রমে চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম তা অনুমোদন করেন। বর্তমানে প্যানেল আইনজীবীর সংখ্যা ৬৩ জন বলেও সভায় জানানো হয়েছে। এছাড়া সভায় ৫ জন প্যানেল আইনজীবী উপস্থিতি ছিলেন।
চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মোরশেদ আলমের উপস্থাপনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাজাহান আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন, জেল সুপার আসাদুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মারুফ সারোয়ার বাবু, জিপি আব্দুল খালেক, আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি মানি খন্দকার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশাসক আমিনুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সেক্রেটারি শাহ আলম সনি, সিনিয়র সাংবাদিক মানিক আকবর, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কানিজ সুলতানা, প্রত্যাশার সমন্বয়কারী সাইদুর রহমান, জাহানারা যুব মহিলা সংস্থার সভাপতি জাহানারা খাতুনসহ প্যানেল আইনজীবীগণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক