চুয়াডাঙ্গার জনপ্রিয় স্থানীয় দৈনিক ‘সময়ের সমীকরণ’ পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে জেলা শহরের পুলিশ পার্ক লেন সংলগ্ন অফিসটিতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। চোরচক্র অফিসের প্রধান বিদ্যুৎ সংযোগের বিপুল পরিমাণ দামি তামার তার এবং ছাদ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দামি বজ্রপাত নিরোধক তামার দণ্ড (খরমযঃহরহম অৎৎবংঃবৎ) খুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক মেহেরাব্বিন সানভী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
পত্রিকা অফিস ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার ভোর রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে অফিসের কাজ শেষ করে সাংবাদিক ও স্টাফরা কার্যালয় তালাবদ্ধ করে বাড়ি ফিরে যান। এর কিছু সময় পরই ওঁৎ পেতে থাকা চোরচক্র তাদের তাণ্ডব চালায়। সকালে কর্মীরা অফিসে এসে দেখেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। পরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, নিচতলা থেকে রাস্তার বিপরীত পাশে অবস্থিত কোর্ট মসজিদ মার্কেটের তৃতীয় তলা (পত্রিকা কার্যালয়ের নতুন মিলনায়তন ও প্রধান সম্পাদকের দপ্তর) পর্যন্ত বিস্তৃত মেইন লাইনের ৮৮ গজ উন্নতমানের ১০ আরএম তামার তার কেটে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবনের নিরাপত্তায় ছাদে স্থাপিত বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্রটিও উপড়ে নিয়ে গেছে চোর। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য ৩০ হাজার টাকারও বেশি।
অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভোর ৫টা ৪৭ মিনিটের দিকে জনশূন্য এসপি গলিতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি সন্দেহভাজনভাবে ঘোরাফেরা করছেন। এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রধান বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং তারগুলো কেটে নিয়ে চম্পট দেন। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ওই ব্যক্তির ছবি এবং সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দৈনিক সময়ের সমীকরণ কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমানসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি চৌকস দল। তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি বলেন, মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি এবং অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের টিম কাজ করছে।’
এদিকে, পত্রিকা অফিসে চুরির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলার সুধী সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি পত্রিকা কার্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চোরচক্রকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক