গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সিআইপি নির্বাচিত হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান সাহিদুজ্জামান টরিককে আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ৮টায় আলমডাঙ্গা জেস টাওয়ারের হলরুমে বণিক সমিতি ও আলমডাঙ্গার সকল ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে তাঁকে এ গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর (বিডিচ্যাম)-এর সভাপতি, এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিআইপি সাহিদুজ্জামান টরিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সমাজের সবচেয়ে বিনয়ী মানুষ। মনে রাখবেন, ব্যবসা করতে টাকার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন সকলের সাথে যোগাযোগ, ভালো ব্যবহার করা। বড় বড় ব্যবসায়ীর ছেলে লাখ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে, কিন্তু সে যদি মানুষকে মানুষ না মনে করে, তবে দেখবেন তার দোকান খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফাঁকা হয়ে গেছে। কিন্তু যার টাকা নেই, কিন্তু সে যদি কোনো বড় ব্যবসায়ীর মন জয় করতে পারে, দেখবেন সে একদিন আপনার এলাকায় বড় ব্যবসায়ী হয়ে গেছে। তাই কাউকে ছোট ভাববেন না।’
সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘আমি চুয়াডাঙ্গা থেকে কিছু নিতে আসিনি, চুয়াডাঙ্গাকে দিতে এসেছি। আপনারা যদি আমাকে সহযোগিতা করেন, তাহলে আমি এই জেলার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে চাই।’ তিনি বলেন, নিজের যোগ্যতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কই তার মূল শক্তি। শূন্য থেকে শুরু করে আজ তিনি এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছোট ভাই শরীফুজ্জামান ওয়াদা করেছে- সে এমপি হোক বা না হোক, প্রশাসনের কাউকে তদবিরের জন্য সে ফোন দেবে না। আইন আইনের রাস্তায় চলবে। আমাদের বাক্য একটাই- এ দেশে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আমি কথা দিচ্ছি- আপনারা যদি আমার ছোট ভাই শরীফুজ্জামানকে ভোট দেন, তাহলে আমি চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গাকে পরিবর্তন করব, ইনশাল্লাহ। আপনারা যদি আমাকে সহযোগিতা করেন, তাহলে এই অঞ্চলকে উন্নয়নের মাধ্যমে মডেল আলমডাঙ্গা গড়ে তুলবো। বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসতে পারে, তাহলে আলমডাঙ্গার বন্ধ হয়ে যাওয়া কুমারী ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আবার আমি কলেজ করবো ইনশাল্লাহ। আপনারা জায়গা দিলে আলমডাঙ্গায় প্রাইভেট হাসপাতাল বানিয়ে দেব।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিক। উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি হাজী রফিকুল ইসলাম, সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল বারী, হাজী হারুনর রশীদ, হাজী মকবুল হোসেন, হাজী লিয়াকত আলী মোল্লা, হাজী আব্দুল খালেক, হাজী গোলাম রহমান সিজ্ঞুল, সেকেন্দার আলী, সাবেক চেয়ারম্যান ঠিকাদার আজিবর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক মিলন, সদস্য হামিদুল ইসলাম আজম, জয়নাল ক্যাপ, সিরাজুল ইসলাম, তোতা, সাইদুল ইসলাম, মোবাইল ব্যবসায়ী আরিফ, হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান মাটি ও মানুষের গর্ব সিআইপি মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিককে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রেমিট্যান্স ক্যাটাগরিতে অনন্য অবদান রাখায় আলমডাঙ্গার চিৎলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। একইসাথে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা তিনটায় আলমডাঙ্গা উপজেলার আইন্দিপুর ফুটবল মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজিত এই জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মাইক্রো-ম্যাক্স টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের (বিডিচ্যাম) সভাপতি এবং বিশ্বের অনাবাসী প্রবাসীদের শীর্ষ সর্ংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট ও সাহিদ গ্রপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিআইপি মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা পুরুষ, তাদের আল্লাহ নারীদের তুলনায় একটু বেশি শক্তিশালী করে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এই শক্তি যেন আমরা ভালো কাজে ব্যবহার করি। আমাদের শক্তি যেন আমরা কোনো ভুল কাজে বা কোনো দুর্বলের ওপর ব্যবহার না করি। প্রত্যেকে সতর্ক থাকবেন, আমরা সবাই রক্ত-মাংসের মানুষ, আমাদের সবার রাগ আছে, কিন্তু রাগের বশে আমরা যেন কারোর সাথে মারামারি, হানাহনি না করি। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আইন সবার জন্য সমান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইন সবার জন্য সমান। সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আপনারা এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করেন, আপনারা অনেকেই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন, ছোট ছোট করে মাদ্রাসাগুলোও সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই মাদ্রাসার প্রতি খেয়াল রাখব। এই মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করার জন্য আমরা চেষ্টা করব এবং আপনারা যারা যুবসমাজ আছেন, তাদেরকে আমরা অনুরোধ করব, যারা বয়স্ক তাদেরকে আপনারা সহযোগিতা করবেন।’
সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স, যারা মাদকের ব্যবসা করেন, সে যদি আপনাদের দলেরও হয়, তাকে আপনারা আইনের কাছে সোপর্দ করবেন। কারণ আজকে আপনি তাকে সাহায্য করেন, কালকে তার স্বার্থে আঘাত লাগলে সবার আগে আপনার গলায় ছুরি ধরবে। মাদককে সবাই না বলবেন এবং খেলাধুলার প্রতি আপনাদের সন্তানদেরকে উদ্বুদ্ধ করবেন। খেলাধুলা করতে প্রতি বছর যে টাকা লাগবে, সেই টাকা আমরা দেব। মাদকের সাথে লড়তে হলে খেলাধুলা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে আপনাকে দিয়ে, আপনার নেতাকে দিয়ে। ভালো লোককে নির্বাচিত করবেন। যাতে তার কাছে গিয়ে ভালো জিনিসগুলো চাইতে পারেন। এমন লোককে নির্বাচিত করবেন, যাকে আপনার না, আপনাদের এলাকার দরকার আছে।’
গণসংবর্ধনা ও মহিলা সমাবেশে হাজার হাজার নারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিপুল সংখ্যক নারীর উপস্থিতিতে পুরো আইন্দিপুর ফুটবল মাঠ এক বিশাল মাঠ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মহাসমাবেশে পরিণত হয়। অনুষ্ঠান শেষে সিআইপি আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিকের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সফলতা ও দেশের অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক