বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে নির্বাচনী জনসভায় আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াত ক্ষমতায় আসলে উন্নয়নে কোনো বৈষম্য থাকবে না
  • আপলোড তারিখঃ ২৭-০১-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে নির্বাচনী জনসভায় আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার পৃথক সময়ে এ তিন জেলায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। হাজার হাজার নেতা-কর্মী এসব জনসভায় অংশ নেন।


চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘২৪-এর ৫ আগস্ট যেমন একটা বিপ্লব হয়েছিল, আবার ২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি একই ধরণের আরও একটি বিপ্লব ঘটাতে হবে। সেইবারের বিপ্লব ছিল বুলেটের বিরুদ্ধে, এবারের বিপ্লব হবে ব্যালটের মাধ্যমে। এই বিপ্লব হবে দেশে ন্যায় এবং ইনসাফ কায়েম করার জন্য, দুর্নীতি, আধিপত্যবাদ, চাঁদাবাজি এবং হয়রানি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য। এই নির্বাচনে ১১টি দল আমরা একত্রিত হয়েছি। ’
গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে বিশাল জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘যুবসমাজ আর বস্তাপচা রাজনীতি দেখতে চায় না। ৫৪ বছর যে রাজনীতি সারাদেশকে অন্ধকারে রেখেছে, সেই রাজনীতি আমাদের যুবসমাজ আর দেখতে চায় না। পাশের জেলার আবরার ফাহাদ নিজের জীবন দিয়ে চলে গেছে। তার রক্ত এই দেশবাসীর কাছে আমানত, তার লাশ এই দেশবাসীর কাঁধে। ঠিক একই আওয়াজ তুলে ছিলেন শহীদ আবু সাইদ। একইভাবে শরীফ ওসমান ইবনে হাদী ২৪-এর বিপ্লবের অন্যতম নায়ক আধিপত্যবাদীদের বিরুদ্ধে এক বজ্রকণ্ঠ ছিলেন। যে দেশের মায়েরা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, শরীফ ওসমান ইবনে হাদীর মতো সন্তান জন্ম দেন, সেই দেশবাসীকে ভয় দেখাবেন না।’


যুবকদের উদ্দেশ্যে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘তোমাদের হাতে আমরা বেকারত্ব তুলে দিতে চাই না, আমরা তোমাদের হাতগুলোকে দেশ গড়ার কারিগরের হাত হিসেবে তৈরি করে, তোমাদের হাতে আমরা সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। এই কারিগর বানানোর জন্য যে শিক্ষা প্রয়োজন, আমরা সেই শিক্ষা তুলে দিব আমাদের ছাত্র সমাজের হাতে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও তারা অবদান রাখবে। এভাবে আমাদের যুবসমাজকে আমরা কর্মমূখী করে তুলতে চাই। মেয়েদের উচ্চতর শিক্ষার সকল খরচ বহন করবে সরকার। আমরা আমাদের মায়েদের সম্মান, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা ঘরে, চলাচলে ও কর্মক্ষেত্রে নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।’


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেশবাসীর ওপর যথেষ্ট আস্থা রাখি, ইনশাআল্লাহ। চুয়াডাঙ্গাবাসী যদি আমাদের ওপর আস্থা রেখে ১ ও ২ আসনে আমাদেরকে জয়যুক্ত করেন, আমরা কথা দিচ্ছি- আপনাদের এই আস্থা রাখার জন্য আমরা আপনাদের ওপর কৃতজ্ঞ থাকব। আমরা এই ৫ বছর আপনাদের এই ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করে যাব, ইনশাআল্লাহ। আমরা সমস্ত মিল-কারখানা জীবন্ত করে তুলব। চুরি, লুটপাট সব বন্ধ করে দেব। আমরা বেকারত্ব নয় বরং কর্মসংস্থানের মধ্যদিয়েই এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। তিনটি জিনিস আমরা যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে চাই। প্রথমত- একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, দ্বিতীয়ত- সবার জন্য ন্যায়বিচার কায়েম করা, তৃতীয়ত- আমরা একটি বদলে দেওয়া বাংলাদেশ চাই, যেইটা চাই এ দেশের জনগণ। এই গণভোটে যারা দেশটাকে বদলাতে চায়, তারা এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে থাকবে। আমরা আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি- আমরা আপনাদেরকে সাথে নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো ইনশাআল্লাহ।’


জনসভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলা বাংলাদেশের একটি পিছিয়ে পড়া জেলা। এই জেলায় নেই কোনো ভালো স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজ। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো চলে না। আমাদের যুবসমাজ মানুষের পাশে থাকতে চায়। কিন্তু পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র স্বল্পমূল্যে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংস করতে চায়। এই নীতিকে আমরা চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দিতে চাই। আমাদের মা-বোনেরা বাড়িতে-বাড়িতে যখন ভোট চাইতে যায়, আমাদের বন্ধু সংগঠনের ভাইয়েরা বিভিন্ন ছলাই-কলাই, তাদের পায়ে পা বাধিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছেন, আজকে খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই- আমাদের ধৈর্য্যরে পরীক্ষা নিবেন না। আমরা যদি একবার ফুঁসে উঠি, তাহলে কারোর অস্তিত্ব রক্ষা হবে না। আমাদের মা-বোনদের দিকে দৃষ্টি নামিয়ে কথা বলবেন। আমরা এই দেশেটাকে গড়তে চাই। এই দেশের ক্ষুধা, দারিদ্র, চাঁদাবাজ, দুর্নীতি চিরদিনের জন্য বন্ধ করতে চায়।’


জনসভায় বিশেষ অতিথরি বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘আমরা এসেছি জনগণকে মুক্তির দিশা দেখানোর জন্য। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদেরকে কোনো শাসক হিসেবে পরিচয় দিতে চাই না। আমরা আমাদের সকল নাগরিকের সেবক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই। আমরা জুলুমতন্ত্রের রাজনীতি চাই না, আমরা জনগণের বন্ধু হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। আমরা প্রতিটা মানুষের অধিকার তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে চাই।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের ভাই, সন্তান এবং ঐক্যবদ্ধ্য বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে আপনাদেরকে বলছি- আপনারা যদি আমাদেরকে নির্বাচিত করেন, আল্লাহ যদি আমাদেরকে সুযোগ দান করেন, এই বাংলাদেশের বুকে কোনো চাঁদাবাজি রাখবো না। আমরা কখনো দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেন না। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে আগামী বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ, দুর্নীতিবাজ এবং জুলুমকারীদের থেকে মুক্ত করার নির্বাচন। প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির কাছে মাথানত করব না।’


মাসুদ পারভেজ রাসেল আরও বলেন, ‘আমাদের চুয়াডাঙ্গাবাসীর সুবিধা আদায়, চিকিৎসার নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, মা-বোনদের নিরাপদে বিচরণ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের জন্য আসুন আমরা সকলেই একত্রিত হই।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার বিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গার আহ্বায়ক তানভীর রহমান অনিক, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমির আনোয়ারুল হক মালিক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি সাগর আহমেদসহ উপজেলা আমির ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্যরা।


মেহেরপুর:
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়ে ৫৪ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতার সাক্ষী জনগণ। গত ৫৪ বছরে দুর্নীতি ও দুঃশাসনে দেশকে তলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এককভাবে কোনো দল নয়, যারা দেশ শাসন করেছে কেউই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে তারা সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের শাসকরা জনগণকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি, যুবসমাজের হাতে কাজ তুলে দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পারেনি। ব্যাংক লুট, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ ও সামাজিক অবক্ষয়ের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই তাদের। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মানুষ কি আবার সেই পুরনো বস্তাপচা রাজনীতি ও বিভাজনের রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায়? নাকি পরিবর্তন চায়? আমরা পরিবর্তনের আওয়াজ নিয়ে মাঠে নেমেছি। আমাদের সঙ্গে আছে দেশের আপামর যুবসমাজ, মা-বোনেরা, শ্রমিক-কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে জাতি তার মা-বোনকে সম্মান করে আল্লাহ সেই জাতিকে সম্মানিত করেন। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী সমাজ ঘর, রাস্তা ও কর্মস্থলে শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা চাঁদাবাজিকে পেশা বানিয়েছে তাদের সেই পথ ছেড়ে সৎ জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে। চাঁদাবাজরা যদি তওবা করে টাকা ফেরত দেয়, রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। একটি সুখী-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির ও মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হুসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুব উল আলম, শহীদ পরিবারের সদস্য তৌফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মেহেরপুর জেলা সভাপতি মাওলানা হুসাইন আহমেদ, খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা শাহ আলম, গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা আমির মাওলানা সোহেল রানা এবং মুজিবনগর উপজেলা আমির মাওলানা খান জাহান আলী। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন।


ঝিনাইদহ:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা অনৈক্য নয়, বিভক্তি নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। ২৪ শে যেমন বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, ঠিক তেমনিভাবে ২৬ শে ভোটের মাধ্যমে দেশে বিপ্লব ঘটাতে হবে। যদি কেউ রাজনৈতিক লেবাস পড়ে জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তবে তাদের হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে দেওয়া হবে। এ দেশে আর ফ্যাসিবাদ কারো ঘাড়ে ভর করে আসতে দেওয়া হবে না। জামায়াতের আমির গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী হাইস্কুল মাঠে এক বিরাট নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ৫ আগস্টের পর ঝিনাইদহে নাকি চাঁদার রেট বেড়ে গেছে। যারা চাঁদাবাজী করেন, তাদের লজ্জা হওয়া উচিৎ। কারণ একজন মানুষ খেটে খেটে টাকা উপার্জন করেন, আর আপনারা তাতে ভাগ বসান। চাঁদাবাজদের ভিক্ষার পরামর্শ দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন চাঁদাবাজী হারাম, কিন্তু ভিক্ষা হারাম নয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সিন্ডিকেট করে চাঁদাবাজী করা হতো। এতে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদকে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তাড়িয়েছি। কেউ আবার আসতে চাইলে রুখে দেব। কারণ স্ত্রী তার স্বামী, মা তার সন্তান হারিয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসা জগদ্দল পাথরকে সরিয়েছে।


জামায়াতের আমির বলেন, আমরা নিজে সম্পদ বৃদ্ধি করবো না, বরং ক্ষমতায় গেলে দেশের জনগনের সম্পদ বৃদ্ধি করবো। দেশের টাকা যারা চুরি করেছে তাদের পেটের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বের করা হবে। দেশে চিরতরে চুরি বন্ধ করা হবে। জামায়াতের আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে আমরা বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অপমানিত করতে চাই না, শিক্ষিত যুবকদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন করে গড়ে তুলে মর্যাদার কার্ড হাতে তুলে দিতে চাই। ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি, উন্নত যোগাযোগের জন্য রেললাইন ও জেলার নদী খনন করে বহুমুখি কাজে লাগাতে চাই। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে উন্নয়নে কোনো বৈষম্য থাকবে না। ইনসাফ কায়েম করে মানুষের পাশে সর্বক্ষণ থাকবে।
সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের প্রার্থী আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-১ আসনের প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-৩ আসনের প্রার্থী মতিয়ার রহমান ও ঝিনাইদহ ৪ আসনের প্রার্থী আবু তালিবের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিক তুলে দিয়ে জনগণকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঝিনাইদহে নির্বাচনী পথসভাকে ঘিরে সোমবার গোটা শহর জনারোণ্য হয়ে ওঠে। দুপুর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে জামায়াত কর্মীরা দলে দলে সমাবেশস্থলে এসে পৌছান। অল্প সময়ের মধ্যে স্কুল মাঠটি কানায় কানায় পুর্ণ হয়ে যায়। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, রোববার বিকাল থেকেই উজির আলী স্কুল মাঠে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মাঠের আশেপাশে রাতব্যাপী নজরদারী বাড়ানো হয়। নির্বাচনী সমাবেশ যাতে শান্তিপুর্ণ হয়, সে বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মানলেন আবু সাঈদ