জীবননগর উপজেলার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী, জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। গতকাল শনিবার রাত আটটায় জীবননগর তরফদার মার্কেটে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলমাছ উদ্দীন ডাবলু। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মারুফ সারোয়ার বাবু, জীবননগর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও ব্যবসায়ী হাজি নোয়াব আলী মিয়া।
সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আব্দুর শুকুর মিয়া, ভূষিমাল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আব্দুল হামিদ, মৎস্য খাদ্য মালিকদের পক্ষ থেকে আলিফ ও বাজুসের পক্ষ থেকে আসাবুল হক। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন মশিয়ার মল্লিক, মোজাম্মেল হক খোকন, হাজী মোতালেব, আব্দুল হামিদ, বিল্লাল হোসেন, ওবাইদুর রহমান, হযরত আলী, মতিয়ার, আশরাফ, খালিদ, হাসান, দ্বীন ইসলাম ও আক্তার। সভা সঞ্চালনা করেন মো. মঞ্জুরুল কবীর তাপস।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাবু খান বলেন, ‘ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা মরহুম শামসুজ্জামান ডাবলুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে আমার বক্তব্য শুরু করছি। আমি এখানে অনেক কথা শুননাল, জানলাম। সবার আগে আমদের যে জিনিসটা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, এটা আমার বিশ্বাস, সেই বিশ্বাস থেকেই বলছি, শুধু বলার জন্য বলছি না। সেটা হচ্ছে এই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যে আইনে বইয়ে লেখা আছে, সেটা যেন শুধু বইয়ের বিষয় না হয়, সেটা যেন প্রয়োগ করা হয়। যেই আইন মানুষের উপকারে লাগবে না, সেই আইন পরিবর্তন করতে হবে। মানুষের জন্য আইন, আইনের জন্য মানুষ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি। সেটা হচ্ছে এই আইন যারা প্রণয়ন করবেন, আইন প্রণেতাদের নির্বাচন। যদিও বাস্তবতা হচ্ছে ভিন্ন। আমাদের যে সংবিধান, সেই সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন করা, ওই আইন প্রণয়ন করতে হবে যেটা দেশের আপমার জনসাধারণের উপকার হয়। কিন্তু যেটা হয়, সেটা কি একজন সংসদ সদস্য বা সাংসদ যাই বলি না কেন, মূলত তাকে ব্যস্ত থাকতে হয় অন্য কর্মকাণ্ড নিয়ে। আমাদের সংবিধান বলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করবে স্থানীয় সরকার, আর আইন প্রণয়ন করবে সংসদ সদস্য। তো এটা একদিন পরিবর্তন হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা যদি সমাজের দেশের সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রণয়ন করতে পারি, আমরা সবাই ভালো থাকব।’
বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘আমাদের এই যে যারা ব্যবসায়ী, ব্যবসা করি। প্রতিটি মানুষের ভিন্ন ভিন্ন আইডেনটিটি বা পরিচয় আছে। আমাদের কেউ রাজনৈতিক কর্মী আবার ব্যবসাও করি। কেউ আমরা সাংবাদিক সাথে হয়তো ব্যবসা করি। কেউ আমরা চিকিৎসক আবার ব্যবসা করি। কেউ আইনজীবী আবার ব্যবসা করি। দুই-তিনটা পরিচয় আছে। পারিবারিক পরিচয়ের কথা নাই বললাম, সেটা ভিন্ন পরিচয়। আজতে আমরা এখানে যারা সমবেত হয়েছি, মূলত যারা ব্যবসা করি এবং আমরা আমাদের নিজস্ব পুঁজি বিনিয়োগ করেছি আমরা সেল্পমেট। আমরা চাকরি করি না এটা আমাদের অন্যতম গর্বের বিষয়। কিন্তু সমাজের যে চিত্র, সেটা হচ্ছে এই বাস্তবতা এই.. ব্যবসা করি আমরা যারা শিল্প পরিচালনা করি, আমাদের মূল্যায়ন কিন্তু ওইভাবে করা হয় না। দেখা যায় হয়রানি করা, ভিন্নভাবে পেটরেড করা যে.. ব্যবসায়ী মানে কর ফাঁকিবাজ। ব্যবসায়ী মানে আমরা দুর্নীতি করি। আমরা ব্যাংকের টাকা মেরে দিই। এই জায়গারও পরিবর্তন হইতে হবে। পরিবর্তনটা হতে হলে ভালো কাজটা নিজের ঘর থেকেই করতে হবে।
আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে চাই। সেই সমাজ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে আমরা যারা রাজনীতি করি তাদেরকে। এবং এই কথায় কথায় স্লোগান দেওয়া বিভিন্ন জায়গায়.. এই স্লোগানের রাজনীতি থেকে উন্নয়নের রাজনীতিতে যেতে হবে। ইনশাআল্লাহ সেটা আমরা পারব সেই আত্মবিশ্বাস আমাদের আছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক