অন্তর্র্বতী সরকারের অধীনে জাতি এক সঙ্কটকাল পার করছে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ। শত্রুরা দেশে ক্রমাগত উত্তেজনা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে তাদের অপতৎপরতা বাড়ছে। এ অবস্থায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে বিভিন্ন পক্ষের সহিংস আচরণে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে, জুলাই বিপ্লবের অংশীজনরা পক্ষ-বিপক্ষ হয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন। সময়মতো সচেতন না হলে এতে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। এ জন্য দেশপ্রেমিক সবার সাবধান হওয়া উচিত।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সামান্য ঘটনা ঘিরে বড় সহিংসতা ঘটেছে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি এমন পর্যায়ে গেছে যে, কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এ দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাধা দেয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা ভয়াবহ। এক ছাত্রীর সাথে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে মিটিয়ে ফেলা যেত। ছাত্রনেতারা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে চেষ্টা করেছে; কিন্তু তা হয়নি। উল্টো গ্রামবাসীকে সামনে রেখে একটি পক্ষ ছাত্রদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এতে শতাধিক ছাত্র আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সময়মতো সাড়া না দেয়ায় অবস্থার আরো অবনতি হয়। বাকৃবিতে দুটো অনুষদের ছাত্ররা একটি দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। সেখানে বহিরাগতরা এসে হামলা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, প্রশাসন বহিরাগতদের ডেকে এনেছে।
এ দিকে ছাত্ররাও এমনভাবে আন্দোলন করছিলেন- শিক্ষকদের জিম্মি করে ফেলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ে রাকসু নির্বাচন পেছাতে ক্যাম্পাসে শক্তি প্রদর্শন করে ছাত্রদল। তালা লাগিয়ে নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সাধারণ ছাত্ররা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললে কর্তৃপক্ষ আবার নির্বাচন কার্যক্রম সচল করে। সাময়িকভাবে রাবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তবে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটার আশঙ্কা ছিল। ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঢাবি ও জাবিতেও কিছু ছাত্রসংগঠনের বিদ্বেষমূলক তৎপরতা দেখা গেছে। বামপন্থী কয়েকটি সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের পুরনো কার্ড খেলে নির্বাচনের পরিবেশ কলুষিত করার অপচেষ্টা করছে। এগুলো থেকে যেকোনো সময় সন্ত্রাস কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। ক্যাম্পাসে অশান্তি সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিতরা কমবেশি জুলাই বিপ্লবের অংশীদার।
তুচ্ছ স্বার্থে তারা এমনটি হয়তো করছেন। মনে রাখতে হবে, ছোটখাটো রেষারেষি থেকে বড় ধরনের অঘটন ঘটে যেতে পারে। পরে যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিপ্লবী শক্তিগুলোর মধ্যে এমন কিছু ঘটাতে ওঁৎ পেতে রয়েছে শত্রুপক্ষ। বর্ষাবিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের যত রোষ তাই তাদের ওপর। বিগত এক বছরে এই ছাত্ররা নানাভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। চবিতে ছাত্রদের ওপর হমালায় সেই আলামত স্পষ্ট। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল সব ছাত্রসংগঠনকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ যেন শত্রুতায় না যায়। মনে রাখা জরুরি যে, বিপ্লব ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদী শত্রুদের দ্বারা ছাত্রনেতাদের জীবন বিপন্ন হবে। তাই অযথা ভোদাভেদ না বাড়িয়ে সহনশীলতার পরিচয় দিন। যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকুন।
প্রধান সম্পাদক