চুয়াডাঙ্গা সামাজিক ও বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, ঘুষ দাবি এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একটি করাত কল স্থানান্তরের আবেদন অনুমোদনের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কথোপকথনের একটি রেকর্ড এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শাফায়েত উল্লাহ (ছদ্মনাম) নামের এক ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার কাঠপট্টি এলাকা থেকে তার করাত কলটি বেলগাছি পাড়ায় স্থানান্তরের জন্য পৌরসভা এবং জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়াসহ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুয়াডাঙ্গা বন বিভাগে আবেদনের জন্য যান। সেখানে তার আবেদনের যাবতীয় কাগজপত্র জমা নিলেও সরকারি ফি জমাদানের প্রক্রিয়া ও কোড না জানিয়ে তাদের মাধ্যমেই জমাদানের পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু গত এক মাস ধরে দপ্তরে ঘুরলেও তার আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, দপ্তরের অফিসার ইনচার্জ এ.কে.এম আতা এলাহী এবং রেঞ্জ সহকারী শাহজামান রিপন সরকারি ফির বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না দিয়ে তাকে বারবার ঘুরিয়ে আসছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুক্তভোগী শাফায়েত উল্লাহ খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে রেঞ্জ সহকারী শাহজামান রিপন তাকে বলেন, ‘সরকারি ফির পাশাপাশি আরও অনেক খরচ আছে। বিশেষ করে ডিসি অফিসে মিটিং ও কুষ্টিয়া অফিসে মোটা অঙ্কের খরচ দিতে হবে।’ এমনকি তিনি চট্টগ্রামে একটি কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার উদাহরণ টেনে এখানেও বড় অঙ্কের অর্থের ইঙ্গিত দেন। চালানের বাইরে অতিরিক্ত টাকা কেন লাগবে, এমন প্রশ্নে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওই দপ্তরে গেলে রেঞ্জ সহকারী শাহজামান রিপন সংবাদকর্মীদের সঙ্গে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। এক পর্যায়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় ভাষায় হুমকি প্রদান করে তিনি বলেন, ‘তোরা এলাকার ছেলে, ঝামেলা করিস নে।’ গণমাধ্যমকর্মী ফিরে আসার পরবর্তীতে ওই ভুক্তভোগীকে অফিসার ইনচার্জ আতা এলাহী দায় এড়াতে অদ্ভুত যুক্তি প্রদর্শন করে বলেন, একটি আবেদন নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়; আরও চার-পাঁচটি আবেদন জমা না হলে ফাইল আগানো যাবে না।
তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অফিসার ইনচার্জ এ.কে.এম আতা এলাহী তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, কাউকে এ ধরনের কোনো পরামর্শ বা হয়রানি করা হয়নি। তবে ভুক্তভোগীর হাতে থাকা অডিও রেকর্ড ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ভিন্ন কথা বলছে। ভুক্তভোগী শাফায়েত উল্লাহ এই হয়রানি ও দুর্নীতির হাত থেকে বাঁচতে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় করাত কল স্থানান্তরের অনুমতি পেতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখবো। ওই দপ্তরের প্রধানকে ডেকে এ বিষয়ে জানতে চাইব। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ ধরনের কোনো টাকা লাগে না।’
নিজস্ব প্রতিবেদক