ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে দর্শনার জনজীবন। প্রচণ্ড গরমের হাত থেকে বাঁচতে এখন একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী হাতপাখা। গতকাল বুধবার দর্শনা রেলবাজারের মুদি ব্যবসায়ী সেলিম জানান, চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাতপাখার দামও বেড়েছে। আগে যেখানে ৩০-৩৫ টাকায় পাখা পাওয়া যেত, এখন তা ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই উপকরণ এখন গরম থেকে বাঁচার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
দর্শনা পল্লী বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতিতে দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন এলাকাবাসী। এতে করে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও গ্রামীণ পরিবারের সদস্যরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। দর্শনা বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, ‘আগে গরমের সময় কিছু পাখা বিক্রি হতো। কিন্তু এবার বিদ্যুতের সমস্যার কারণে চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে পাখা আনতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও পড়েছেন বিপাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন হাতপাখা ছাড়া উপায় থাকে না। গরমে পড়াশোনা করাও খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার মধ্যে এত লোডশেডিং থাকলে ভালো ফল করা কঠিন।’
এ বিষয়ে দর্শনা পল্লি বিদ্যুতের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মাজেদ জানান, ‘আমাদের দর্শনা অফিসের বিদ্যুতের চাহিদা ৮ মেগাওয়াট, কিন্তু আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩ মেগাওয়াট। তাই বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আমাদের হাতে যা বিদ্যুৎ আসে, সেটিই সরবরাহ করা হচ্ছে।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে।
দর্শনা অফিস