আলমডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে যুবকের মৃত্যু
সাত ঘণ্টা পর নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার
- আপলোড তারিখঃ
১৮-১০-২০২৬
ইং
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামে মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে শিমুল হোসেন (৩৬) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার বেলা ১টার দিকে বাড়ির পাশের নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন তিনি। দীর্ঘ প্রায় সাত ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিমুল হোসেন আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের গাংপাড়ার বাসিন্দা কলিম উদ্দিন গাইনের একমাত্র ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনদের শোকসাগরে ভাসিয়ে এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা ১টার দিকে শিমুল হোসেন বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে যান। সাধারণত নদীতে গোসল করতে গিয়ে কিছু সময় পর বাড়িতে ফিরে আসার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাঁকে খুঁজতে শুরু করেন পরিবারের লোকজন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও খোঁজাখুঁজিতে সহযোগিতা করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যার দিকে নদী থেকে শিমুল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে খাদিমপুর গ্রামজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। আকস্মিক এ মৃত্যুতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা গভীরভাবে মর্মাহত হন।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, শিমুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিলেন। তবে নদীতে গোসল করতে নেমে ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিমুল ছিলেন কলিম উদ্দিন গাইনের একমাত্র ছেলে। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তাঁর বাবা ও পরিবারের সদস্যদের ওপর নেমে এসেছে অপূরণীয় শোক। অন্যদিকে, বাবাকে হারিয়ে তাঁর কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বজনদের মধ্যে বেদনার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার রাতেই গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে শিমুল হোসেনের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
একটি আকস্মিক মৃত্যুতে খাদিমপুর গ্রামের একটি পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
কমেন্ট বক্স