শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে ১১৬ মণ্ডপে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব

ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস
  • আপলোড তারিখঃ ১৬-১০-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে ১১৬ মণ্ডপে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব

ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর চুয়াডাঙ্গার মন্দিরগুলো। বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে পূজামণ্ডপ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, প্রার্থনা আর উৎসবের আমেজ। গতকাল শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। দেবীর বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে পূজার সূচনা উপলক্ষে জেলার মন্দিরগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলায় ১১৬টি পূজামণ্ডপে এবার দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩৩টি, আলমডাঙ্গায় ৩৯টি, দামুড়হুদায় ২০টি এবং জীবননগরে ২৪টি মণ্ডপ রয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপ ঘিরেই চলছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রতিমা দর্শন ও ভক্তদের আনাগোনা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ। কোথাও ভক্তরা দেবীর চরণে প্রার্থনা করছেন, কোথাও ঢাকের তালে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে।

শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আনন্দের আবহ। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও অনেকে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে মন্দিরে আসছেন। পূজার দিনগুলোতে প্রতিমা দর্শন, অঞ্জলি, প্রসাদ গ্রহণ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যদিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন ভক্তরা।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শরৎকালে দেবী দুর্গাকে জাগ্রত ও মর্ত্যে আহ্বানের আনুষ্ঠানিকতাকে বোধন বলা হয়। মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় ভক্তরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন। দেবী দুর্গাকে শক্তি, সাহস ও কল্যাণের প্রতীক হিসেবে আরাধনা করা হয়।

গতকাল শুক্রবার সকালে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেবীর মঙ্গল অর্চনা ও ষষ্ঠীপূজার আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মন্দিরগুলোতে ভক্তদের সমাগম ঘটে। কাঁসর-ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ঢাকের বাদ্যে পূজামণ্ডপগুলোতে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। সন্ধ্যায় দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে পূজার পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের বড় বাজার, মালোপাড়া, তালতলাসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপে বিকেল থেকেই মানুষের বিচরণ বাড়তে থাকে। প্রতিমা দর্শনে আসেন নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। মণ্ডপের আশপাশে বসেছে খাবার, খেলনা ও নানা পণ্যের দোকান। পূজাকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের বাড়তি আমেজ। মণ্ডপের সাজসজ্জা, প্রতিমার সৌন্দর্য এবং আলোকসজ্জা উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।

মহালয়ার মধ্যদিয়ে দেবীপক্ষের সূচনার পর থেকেই জেলার মন্দিরগুলোতে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছিল। প্রতিমা নির্মাণ ও রং করা, দেবীর পোশাক-অলংকার পরানো, মণ্ডপ সাজানো এবং আলোকসজ্জার কাজ শেষ করে এখন পূজার আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত আয়োজকেরা। মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয়েছে দেবীর আরাধনা।

পূজার দিনগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে ঘিরে থাকবে বাড়তি আয়োজন। অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনেক মণ্ডপের আকর্ষণ হয়ে উঠবে। পূজার আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রস্তুতি নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সাথে আইনশৃঙ্খলা ও জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

পূজামন্ডপগুলোতে দেখা যায়, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক ও পূজা কমিটির সদস্যগণ শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। চুয়াডাঙ্গা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি ও মোতায়েন করা হয়েছে।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে মন্দিরকেন্দ্রিক এই আয়োজন স্থানীয় অর্থনীতিতেও কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করেছে। পূজামণ্ডপের আশপাশে খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসেছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে কেনাকাটা ও মানুষের চলাচল বাড়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ব্যস্ততা। তবে উৎসবের মূল আকর্ষণ দেবী দর্শন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ঘিরেই।

পূজাকে ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশা- ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে আনন্দময় পরিবেশে সম্পন্ন হবে সব আনুষ্ঠানিকতা। দেবীর কাছে শান্তি, সমৃদ্ধি, মানুষের কল্যাণ এবং অশুভ শক্তির বিনাশ কামনা করবেন তাঁরা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও আরতির আলোয় আগামী দিনগুলোতে জেলার মন্দিরগুলো আরও মুখর হয়ে উঠবে- এমন প্রত্যাশা পূজার আয়োজক ও ভক্ত-দর্শনার্থীদের।

গতকাল শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা চলবে আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পর্যন্ত। মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীর পূজা শেষে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। দেবীর আগমনকে ঘিরে যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সূচনা হয়েছে, তা আগামী কয়েক দিন চুয়াডাঙ্গার ১১৬টি পূজামণ্ডপে ছড়িয়ে থাকবে ধর্মীয় আবহ, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সাহিত্য পাঠের আসর ‘পদধ্বনি’ অনুষ্ঠিত