দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি, দর্শনা সিঅ্যান্ডবি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রয়াত হাজী খন্দকার শওকত আলীর রুহের মাগফিরাত কামনায় স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ আসর দর্শনা রেলইয়ার্ডে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক ও সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান বুলেট।
প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, হাজী খন্দকার শওকত আলী ছিলেন স্পষ্টভাষী মানুষ। তাঁর ছেলে জানিয়েছেন, তাঁর বাবা সবসময় স্পষ্ট কথা বলতেন। রাজনীতি করতে গিয়েও তাঁরা স্পষ্ট কথা বলেন। এতে তাঁদের কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রয়াত হাজী খন্দকার শওকত আলী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই তাঁর স্মরণসভায় দলীয় কিছু বিষয় তুলে ধরতে চান তিনি। চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ কাজ করলে তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান মাহমুদ হাসান খান বাবু।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, হাজী খন্দকার শওকত আলী দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দর্শনায় দলের পক্ষে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জীবদ্দশায় তিনি বারবার নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখনো দর্শনা পৌর বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ কারণে দীর্ঘদিনেও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, দর্শনা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। অথচ বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধ থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে কমিটিতে যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাঁদের মেনে নিয়ে সবাইকে দলের স্বার্থে কাজ করতে হবে। তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসরণের পাশাপাশি বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় দলকে সাংগঠনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, দর্শনা পৌর বিএনপি নেতা মহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সমন্বয়ক ও সাবেক প্রভাষক মশিউর রহমান, সমন্বয়ক ইকবাল হোসেন, শরীফ উদ্দিন ও নাহারুল ইসলাম। এসময় দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক ও দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস এনামুল হক শাহ মুকুল। শেষে প্রয়াত হাজী খন্দকার শওকত আলীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
দর্শনা অফিস