শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় জমেনি পূজার বাজার, দামে অসন্তুষ্ট ক্রেতারা

শপিংমলগুলোর তুলনায় গলির বাজারে ভিড় বেশি, বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
  • আপলোড তারিখঃ ১৬-১০-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় জমেনি পূজার বাজার, দামে অসন্তুষ্ট ক্রেতারা

দুর্গাপূজাকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গার বড় বাজারে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কেনাকাটার আমেজ কিছুটা কম। মহাষষ্ঠীর দিনেও শহরের অন্যতম প্রধান প্রধান বিপণিবিতানে প্রত্যাশিত ক্রেতাসমাগম দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে পূজার কেনাকাটায় ভাটা পড়েছে। তবে নতুন নকশা ও বৈচিত্র্যময় পোশাকের সংগ্রহ থাকলেও ক্রেতাদের কাছে দামই হয়ে উঠেছে বড় বিবেচ্য বিষয়।

চুয়াডাঙ্গায় পূজার কেনাকাটার চিত্র দেখতে শহরের বড় বাজারের নিউ মার্কেট, আব্দুল্লাহ সিটি, প্রিন্স প্লাজা ও আশপাশের গলির বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিউ মার্কেটসহ শপিংমলগুলোর অধিকাংশ দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। দিনের বেলায় দোকানগুলোতে তেমন ভিড় না থাকলেও সন্ধ্যার পর কিছুটা বাড়ে ক্রেতাদের আনাগোনা। অন্যদিকে, গলির বাজারের কয়েকটি পোশাকের দোকানে ছিল ভালো ভিড়। কোনো কোনো দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নিউ মার্কেটের শাড়িবিক্রেতা আতিকুল হক বলেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদা মোটামুটি ভালো। সকালে তেমন চাপ থাকে না, তবে সন্ধ্যার পর ক্রেতারা আসছেন। তারপরও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতার সংখ্যা কম। প্রায় সব পণ্যের দামই কিছুটা বেশি।’ আরেক কাপড় ব্যবসায়ী নিশিত চক্রবর্তী জানান, এবারের পূজার নতুন সংগ্রহে ‘ফারসি’ ও ‘গারারা’ পোশাকের চাহিদা বেশি। পাশাপাশি রয়েছে টুপিস ও লং গাউনের বিভিন্ন নকশা। তাঁর দাবি, দেশি পোশাকের দাম তেমন বাড়েনি, তবে বিদেশি পোশাকের দাম বেড়েছে।


পুরুষদের পোশাক বিক্রেতা শাহজালাল বলেন, ‘এবার পূজায় অন্যান্য বছরের তুলনায় বেচাকেনা কম। তবে ভালো সংগ্রহ আনা হয়েছে। আগে রাত আটটা থেকে নয়টার মধ্যে দোকান বন্ধ করা হতো, এখন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখছি। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কেনাকাটা কিছুটা জমে ওঠে।’

আরেক বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, পূজা উপলক্ষে নতুন নকশার শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্ট তুলেছেন। তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে, পূজা উপলক্ষে পাঞ্জাবির বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে যেখানে ক্রেতার উপস্থিতি ও বিক্রি নিয়ে হতাশার চিত্র উঠে এসেছে, সেখানে ক্রেতাদের অভিযোগ মূলত পোশাকের দাম নিয়ে। তাঁদের মতে, গত বছরের তুলনায় এবার অনেক পোশাকের দাম বেশি। ফলে পছন্দের পোশাক কেনার পরও দামের কারণে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না অনেকে। তবে নতুন পোশাকের নকশা ও সংগ্রহ নিয়ে তাঁদের সন্তুষ্টি রয়েছে।

নিউ মার্কেটসহ অন্যান্য শপিংমলগুলোর তুলনায় গলির বাজারে কেনাকাটার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানকার বেশ কয়েকটি দোকানে ক্রেতাদের ভালো উপস্থিতি দেখা গেছে। কোনো কোনো দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। তুলনামূলক কম দামে পোশাক পাওয়ার আশায় অনেকেই এসব দোকানে ভিড় করছেন।

গলির বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী পোশাক পাওয়া যাচ্ছে, সংগ্রহও ভালো। তবে দাম কিছুটা বেশি। অন্য মার্কেটের তুলনায় গলির বাজারে দাম কম মনে হলেও গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম বেশি।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পূজার আগে শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে পারে। সে আশায় দোকানগুলোতে নতুন পোশাকের সংগ্রহ সাজিয়ে রেখেছেন তাঁরা। তবে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়লেও বিক্রি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের মধ্যে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সাহিত্য পাঠের আসর ‘পদধ্বনি’ অনুষ্ঠিত