রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শৈশবে আগুনে পুড়ে বদলে যায় তিন ফুট উচ্চতার মোফাজ্জলের জীবন

ছেলেকে নিয়ে অভাবের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই
  • আপলোড তারিখঃ ১৮-১০-২০২৬ ইং
শৈশবে আগুনে পুড়ে বদলে যায় তিন ফুট উচ্চতার মোফাজ্জলের জীবন

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ভুলটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন। শারীরিক উচ্চতা মাত্র তিন ফুট। ছোটবেলায় আগুনে পুড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর জীবন থমকে যায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতায়। কিন্তু জীবনসংগ্রামে হার মানেননি তিনি। শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর অভাব-অনটনকে সঙ্গী করেই প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবুও সামান্য আয়ে মিটছে না সংসারের চাহিদা, কাটছে না অভাবের অন্ধকার।


মোফাজ্জল হোসেন ভুলটিয়া গ্রামের মৃত আবজ্জেল সাহার ছেলে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন বছর বয়সে আগুনে পুড়ে তাঁর পা থেকে কোমর পর্যন্ত শরীরের বড় একটি অংশ ঝলসে যায়। সেই দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। বর্তমানে তাঁর উচ্চতা প্রায় তিন ফুট। শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে তাঁকে।


দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন মোফাজ্জল। একপর্যায়ে ভুলটিয়া গ্রামে হিউম্যান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নয়মাইল বাজারে একটি বাদামের দোকান পান তিনি। সেই দোকানে বাদাম বিক্রি করেই এখন জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন। দোকান থেকে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই চলে তাঁর পরিবারের দৈনন্দিন খরচ। কিন্তু আয় কম হওয়ায় সংসারের প্রয়োজন মেটাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।


মোফাজ্জল হোসেনের পরিবারে বর্তমানে তিনজন সদস্য রয়েছেনÑতিনি, তাঁর স্ত্রী ও সাত বছর বয়সী ছোট ছেলে। তাঁর বড় ছেলে মারা গেছেন। বড় সন্তানকে হারানোর শোক বুকে নিয়ে ছোট ছেলেকে ঘিরেই এখন তাঁর বেঁচে থাকার স্বপ্ন। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে ছেলেকে নিয়ে ভবিষ্যতের চিন্তাও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়।


প্রতিদিন বাদামের দোকানে বসে ক্রেতার অপেক্ষা করেন মোফাজ্জল। বিক্রি ভালো হলে কিছুটা স্বস্তি মেলে, আর বিক্রি কম হলে সংসারের খরচ জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসার পুঁজি বাড়ানোর সামর্থ্যও তাঁর নেই। অল্প পুঁজি দিয়ে ব্যবসা চালাতে গিয়ে বারবার সংকটে পড়তে হয় তাঁকে। দোকানের আয় থেকে সংসার চালানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।


মোফাজ্জল হোসেনের জীবনসংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে মোফাজ্জল হোসেনকে দেখে আসছি। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁকে অনেক কষ্ট করে জীবন চালাতে হয়। একসময় মানুষের কাছে হাত পেতে চলতে হতো। পরে ভুলটিয়া হিউম্যান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নয়মাইল বাজারে একটি বাদামের দোকানের ব্যবস্থা হয়। সেই দোকানের আয় দিয়েই এখন তাঁর সংসার চলে। কিন্তু আয় খুবই সামান্য। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাঁকে অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।”


তিনি আরও বলেন, "মোফাজ্জল যেন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন, সে জন্য তাঁর পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। তাঁর ব্যবসার পুঁজি বাড়ানো ও পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে সহযোগিতা করা গেলে তিনি আরও ভালোভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।"


মোফাজ্জল হোসেনের জীবন যেন প্রতিদিনের এক নীরব যুদ্ধ। একদিকে শৈশবের দুর্ঘটনার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, অন্যদিকে সংসারের দায়িত্বÑসবকিছু সামলে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। শারীরিক উচ্চতা কম হলেও পরিবারের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ কিংবা বেঁচে থাকার ইচ্ছা কোনো অংশেই কম নয়। তিনি কারও বোঝা হয়ে থাকতে চান না; চান নিজের শ্রমে সংসার চালাতে এবং সন্তানকে নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচতে।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে যুবকের মৃত্যু