জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে কথিত পরকীয়ার অভিযোগে সবুজ নামে এক যুবককে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া ও গলায় জুতার মালা পরানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে ওই প্রবাসীর স্ত্রী রোজিনার ঘর থেকে একই গ্রামের ওসমান মিয়ার ছেলে সবুজকে আটক করেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের দাবি, ওই সময় দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে সবুজকে মারধর করে তার চুল কেটে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। সালিশের প্রথম পর্যায়ে ওই নারীকে সবুজের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ওই নারীকে ১০ কাঠা জমি দেওয়ার এবং ৫ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণের কথাও উঠে আসে। তবে পরবর্তীতে ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মী সালিশে উপস্থিত হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয় বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি।
একপর্যায়ে ওই নারী দাবি করেন, সবুজের কাছে তার আড়াই লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। পরে পাওনা পরিশোধের অংশ হিসেবে সবুজের কাছ থেকে ২ লাখ টাকার একটি চেক নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এরপর তাকে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এদিকে সালিশের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে অর্থ লেনদেনের বিষয় থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে সবুজের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সকালে ঘটনা শোনার পর ঘটনাস্থলে যায়, সেখানে ওই নারীর সঙ্গে সবুজের বিয়ের কথাবার্তা হচ্ছিলো। তবে এক পর্যায়ে তা ভেস্তে যায়।’ টাকার বিনিময়ে সালিশের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি টাকা নিইনি, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার নিলে নিতে পারে।’ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। কিন্তু কোনো টাকা-পয়সা আমি নিইনি।’
সমীকরণ প্রতিবেদক