মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহে হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামের প্রকোপ

দুই শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি, শয্যা সংকট
  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০৮-২০২৬ ইং
ঝিনাইদহে হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামের প্রকোপ

গরমের পাশাপাশি হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে ঝিনাইদহে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত হয়ে জেলা শহরের দুইটি হাসপাতালে ২০০ জনেরও বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে। এদিকে, মাত্র ৪৬টি বেডের বিপরীতে একই সঙ্গে ১৯৭ শিশু চিকিৎসাধীন থাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে চরম হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং, যা অসুস্থ শিশুদের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।


ঝিনাইদহ আড়াইশ বেড জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা মাত্র ৪৬টি। কিন্তু সেখানে ১৯৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৮০ জন, ডায়রিয়া ও ভাইরাসজনিত কারণে ৯৭ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে আরও ২০ জন শিশু।


অন্যদিকে, শহরের ২৫ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালেও ঠাঁই নেই অবস্থা। সেখানে হাম ও নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে আরও ২১ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। সদর হাসপাতালে বেড না পেয়ে মেঝে, বারান্দা ও প্যাসেজে শয্যা পেতে শিশুদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।


রাহেলা বেগম নামে এক শিশু রোগীর স্বজন জানান, তীব্র গরমের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার খেলায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ফ্যান বন্ধ থাকায় শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুরা ছটফট করছে। এনসিইউ ও সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে ছোট ছোট শিশুদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে গরম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মায়েরা।


হঠাৎ শিশুদের এই রোগের বিস্তার প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ আড়াইশ বেড হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ‘প্রতিবছর ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়লেও এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি। তীব্র গরম এবং হঠাৎ আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে শিশুরা খাপ খাওয়াতে না পেরে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে।’


তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘হাসপাতালে বেডের চেয়ে রোগী বেশি, তার ওপর রোগীদের সঙ্গে অতিরিক্ত দর্শনার্থী ও স্বজনদের ভিড় জমছে। এই অতিরিক্ত ভিড় ও সংক্রমণের কারণে চিকিৎসাধীন শিশুরা দ্রুত সুস্থ হতে পারছে না এবং তাদের সুস্থ হতে বেশি সময় লাগছে।’


চিকিৎসক আনোয়ারুল এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় শিশুদের রোদে না নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খাওয়ানো এবং বাসি-পঁচা খাবার থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে অযথা ভিড় না জমিয়ে শিশুদের চিকিৎসায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা।



কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সহসভাপতি আ.মান্নান গ্রেপ্তার