দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরিরত না হয়েও দুই ব্যক্তি নিয়মিত অফিস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলমডাঙ্গা থেকে আসা সেলিম ও বাবুল নামের ওই দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অবস্থান করে বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খাইরুল কবিরের টেবিলের পাশেই কম্পিউটারের সামনে টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসে কাজ করছেন আলমডাঙ্গা থেকে আসা সেলিম। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি ক্যামেরার সামনে নিজের মুখ আড়াল করার চেষ্টা করেন। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে তিনি নিজের মতো কাজ করতেই থাকেন।
স্থানীয়দের দাবি, সেলিম ও বাবুলের কর্মকাণ্ড দেখে অনেকেই তাদের ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী বলে মনে করেন। তাদের একজনকে স্থানীয়ভাবে ‘ছোট তহশিলদার’ এবং অপরজনকে ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে মনে করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খাইরুল কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি সেলিমকে দিয়ে কম্পিউটারে টাইপের কাজ করানোর কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি টাইপে একটু দুর্বল, তাই সেলিমকে নিয়ে এসে টাইপ করাই। এর আগের কর্মস্থলেও তাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিতাম। এছাড়া অন্য কোনো কাজে তার খবরদারি করার ক্ষমতা নেই। তবে হ্যাঁ এর বিনিময়ে প্রতিমাসে কিছু টাকা তাকে আমি দিয়ে থাকি।’
বাবুলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবুল তার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে আসেন। তবে বাইরে থেকে দুজনকে এনে সরকারি ভূমি অফিসে কাজ করানোর ক্ষেত্রে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘অনুমতি ছাড়াই তাদের আনি, আমার সুবিধার জন্য। তাদেরকি আমি টাকা দিয়ে থাকি।’ এসময় সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণ না করার জন্য বারবার অনুরোধ করেন ওই কর্মকর্তা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভূমি অফিসে কর্মরত ব্যক্তি ছাড়া বাইরে থেকে কোনো লোক এনে এ ধরনের কাজ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি দেখব। এ ধরনের কর্মকাণ্ড হয়ে থাকলে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এদিকে, কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে বহিরাগতদের এমন উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। একই সঙ্গে সরকারি নথি ও জনগণের ভূমি-সংক্রান্ত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক