চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসায় দাখিল (এসএসসি) পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে ২২ থেকে ২৫ মিনিট পরীক্ষা নেবার পর পরিবর্তন করা হয়েছে প্রশ্নপত্র। শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেবার কথা থাকলেও দেয়া হয়নি অতিরিক্ত সময়। এতো বড় ঘটনা ঘটলেও জানানো হয়নি জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা ও আইসিটি)। দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রতিবেদকের কাছে জানার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যহতি এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে। একই সাথে জেলা প্রশাসন ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর বোর্ডে প্রেরণ করবে, যাতে বিশেষ দৃষ্টিকোণে দেখা হয় তাদেরকে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে দাখিল পরীক্ষার্থীদের ছিল কুরআন মাজিদ পরীক্ষা। পূর্ব থেকেই বোর্ড থেকে নির্দেশনা ছিল এই পরীক্ষাটি হবে ১০০ নম্বরের। এক প্রশ্নপত্রে ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। এর মধ্যে ৬০ নম্বর লিখিত ও ৪০ নম্বরের হবে বহুনির্বাচনী। তবে বহুনির্বাচনীর জন্য থাকবে না আলাদা কোনো ওএমআর শীট। মূল খাতাতেই ৩ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে লিখতে হবে।
আলিয়া মাদ্রাসার একাধিক রুমে পরীক্ষায় অংশ নেয়া অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেছে দৈনিক সময়ের সমীকরণ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রথম দিনের পরীীক্ষায় ৩০ নম্বরের একটি বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শীট দেয়া হয়। এরপর পরীক্ষা শুরুর ২২ থেকে ২৫ মিনিট পর কেন্দ্র সচিব চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জান্নাত আলী কক্ষে কক্ষে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ভুল দেয়া হয়েছে। আমরা সময় ঠিক করে দেব। পরীক্ষা শেষে সমান সমান সময় বেশি দেয়া হবে।’ তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরবর্তীতে ৫ মিনিট সময় অতিরিক্ত বেশি দিয়ে খাতা নিয়ে নেয়া হয়।’
কামিল মাদ্রাসার ২০৪ নম্বর রুমের এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমে প্রশ্নপত্র দেখে আমরা রুমের স্যারকে বলেছিলাম বহুনির্বাচনী ৪০ নম্বরের হবার কথা। স্যার বললেন, প্রশ্নে যা আছে তাই করো। পরে আবার প্রশ্ন ভুল দেয়া হয়েছে বলা হয়। এসময় আমাদেরকে কেন্দ্র সচিব স্যার এসে বলেছিলেন পরীক্ষার শেষে সময় ধরে দেয়া হবে। তবে ৫ মিনিটের মাথায় খাতা নিয়ে নেয়া হয়েছে।’
আরেক কক্ষের একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের সময় বেশি দেবার কথা বলা হলেও মাত্র ৪-৫ মিনিট সময় বেশি দেয়া হয়েছে। তবে ভুল প্রশ্নে আমাদের ২৫ মিনিট সময় নষ্ট হয়েছে।’ এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলের পরীক্ষা এ জন্য খারাপ হয়েছে। শিক্ষকদের উচিত ছিল সময় সমান সমান করে ঠিক দেয়া। তবে তারা অতিরিক্ত সময় দেয়নি। এটা শিক্ষার্থীদের সাথে অন্যায় করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব জান্নাত আলীর কাছে এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ছোট একটা ঘটনা। এ বিষয় নিউজ করার দরকার নেই।’ এরপর তিনি মুঠোফোন কেটে দেন। এবং আর মুঠোফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিএম তারিক-উজ-জামান বলেন, ‘বিষয়টি তো আমার জানাই নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তো কেন্দ্র সচিবের জানানোর প্রয়োজন ছিল। আমরা সেখানে যেতাম। পরিদর্শন করে দেখতাম কী অবস্থা। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতাম। যাইহোক, বিষয়টি এখন আপনি আমাদের নজরে দিলেন। আমরা নিশ্চয় খতিয়ে দেখব।’
পরবর্তীতের রাত ১০টা ১৫ মিনিটে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিএম তারিক-উজ-জামান বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জান্নাত আলী ও ট্যাগ অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হবে। এবং কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হবে। একই সাথে জেলা প্রশাসন ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর বোর্ডে প্রেরণ করবে, যাতে বিশেষ দৃষ্টিকোণে দেখা হয় তাদেরকে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক