চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পৃথক মাদক বিরোধী অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসআই ইকরামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সদর উপজেলার সাতগাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের মো. মোলামের বাড়ির সামনে অভিযান চালায়। এসময় আব্দুল কাদের ফকিরকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের ইব্রাহিম ফকির ওরফে ভজলের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মাদক সেবন করে পুলিশের সামনে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অসংলগ্ন কথাবার্তা বলার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে আদালত তাকে ১৫ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, এসআই এম সজীব আহম্মেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের ওমনি জুতার শোরুমের সামনে অভিযান চালিয়ে শাওন ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করে। তিনি চুয়াডাঙ্গার আমদহ গ্রামের ছেনারুল ইসলামের ছেলে। এসময় তার কাছ থেকে ২ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আদালত তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া এসআই মো. শরীয়তুল্লাহ ভুইয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সদর উপজেলার নয়মাইল বাজারে আনিছুর রহমানের চায়ের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে সজিব মিয়া (২৬) ও হাসানুজ্জামানকে (২৪) গ্রেপ্তার করে। সজিব মিয়া আলমডাঙ্গা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের দেলসার ফকিরের ছেলে এবং হাসানুজ্জামান একই গ্রামের হাশেম আলীর ছেলে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পরে আদালত সজিব মিয়া ও হাসানুজ্জামানকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক