আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইতনপুর গ্রামে জমি দখল, ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট এবং দুটি ছাগল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আজিজুল হক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী উমিয়া খাতুন। জমি মাপজোক ও আপসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তিনি জমির দখল বুঝে পাননি বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েও কাক্সিক্ষত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।
ভুক্তভোগী উমিয়া খাতুন রুইতনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর দাবি, একই গ্রামের মৃত ইয়াসিন শেখের ছেলে আজিজুল হকের কাছ থেকে তিনি বহু বছর আগে জমি কিনেছিলেন। তবে জমি কেনার পর থেকেই তা বুঝে পাওয়া নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন সময় মামলা-হামলার ভয় দেখানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উমিয়া খাতুনের অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁর প্রতিবন্ধী স্বামী ও সন্তানদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান। ভুক্তভোগী উমিয়া খাতুন বলেন, ‘থানা থেকে পুলিশ ও আমিন গিয়ে জমি মেপে সবকিছু ঠিক করে দেওয়ার পরও আজিজুল ও তার সহযোগীরা ওই জমি দখল করে রেখেছে। আমার দুটি ছাগলও নিয়ে গেছেন ওরা। আমার ছেলেদেরও মেইরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি।’
ঘরবাড়ি ও মালামাল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার ঘরের ভেতরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও সেলাই মেশিন রয়েছে। কিন্তু তাঁরা জমি ও ঘর দখল করে রাখায় আমি সেখানে যেতে পারছি না। সেখানে যেতে চাইলে আজিজুল আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেই।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে উমিয়া খাতুন আরও বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, তাঁদের সঙ্গে পেরে উঠব না। ভিক্ষা করে খাই। আমার স্বামী ও সন্তানরাও প্রতিবন্ধী। এ অবস্থায় আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি আমার জমি ও ঘর ফিরে পেতে চাই।’
তবে উমিয়া খাতুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আজিজুল হক। তিনি বলেন, ‘উমিয়া খাতুনের করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তাদের মারধর করিনি, প্রাণনাশের হুমকি দিইনি কিংবা কোনো লুটপাটও করিনি। আমি ঢাকায় থাকি। অযথা কেন এসব ঝামেলায় জড়াতে যাব?’ এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক