হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ এবং সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে মেহেরপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মেহেরপুর প্রেসক্লাবে জেলা হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেহেরপুর জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. আব্দুস সালাম। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক আমির মো. জসেব উদ্দিন। এসময় ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মো. শরিফুল ইসলাম, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মাহমুদ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বক্তব্যের পাশাপাশি সংগঠনটির আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া ও দেশ থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে সমাবেশে অংশ নেওয়া নারীদের নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে দেওয়া নয় দফা দাবির মধ্যে হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবিও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সংগঠনটির সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, এর আগে উগ্রবাদীদের ইন্ধনে পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের বাড়িতে একাধিকবার হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় সংগঠনটির দুই সদস্য নিহত ও শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন বক্তারা। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নোয়াখালীতে সংগঠনটির স্কুল, হাসপাতাল, খামার ও পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পও হুমকির মুখে রয়েছে।
বক্তারা দাবি করেন, হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক ও সংস্কারমূলক আন্দোলন। আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে কাজ করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা হলেও গত ৩১ বছরে কোনো সদস্য আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উসকানি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ব্যবহার করে উসকানি বন্ধ, হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, সদস্যদের পরিবার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার দাবি জানানো হয়। এসময় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
প্রতিবেদক মেহেরপুর