দর্শনা থানাধীন নেহালপুর ইউনিয়নের হিজলগাড়ী বাজারে কথিত ‘সর্বহারা পার্টি’র নামে ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে তিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিজলগাড়ী বাজারের ফাতেমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রহিদুল কসমেটিক্স ও মালিতা ট্রেডার্সে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে ফাতেমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও রহিদুল কসমেটিক্সের কাছে এককালীন অনুদান বা চাঁদা হিসেবে ২০ লাখ টাকা করে এবং মালিতা ট্রেডার্সের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশ সর্বহারা পার্টি শিগগিরই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, ঢাকা থেকে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে সংগঠনের প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন অনুদান বা চাঁদা দাবি করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা হিজলগাড়ী এলাকায় ব্যবসা করায় সংগঠনের আঞ্চলিক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা ‘সাবির আহমেদ (শিমুল)’-এর কাছে টাকা জমা দিতে হবে। চিঠির নিচে ‘সভাপতির পক্ষে, বাংলাদেশ সর্বহারা পার্টি, কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ঢাকা’ লেখা রয়েছে।
তবে চিঠিগুলো সত্যিই ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে কি না, কিংবা এর সঙ্গে সংগঠনটির কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিঠিতে হিজলগাড়ীর পাশের গ্রাম নলবিলার বাসিন্দা সাবির আহমেদ (শিমুল)-এর নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবির আহমেদ শিমুল বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে হয়ত আমাকে ফাঁসানো বা হয়রানি করার জন্য কেউ আমার নাম ব্যবহার করেছে। এ বিষয়ে দর্শনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা ও অপরাধী শনাক্ত হবে বলে আমার বিশ^াস।’
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, কিছুদিন আগে শিমুলের স্ত্রী চিকিৎসক আনিকা তানসিনের সঙ্গে ফাতেমা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রতনের ব্যবসায়িক বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়। এরই মধ্যে শিমুলের স্ত্রী হিজলগাড়ী বাজারে নতুন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালুর জন্য একটি পজিশন ভাড়া নিয়েছেন। চলতি মাসের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, ওই ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে তৃতীয় কোনো পক্ষ শিমুলের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবির চিঠি পাঠিয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে তারা জানান। ফাতেমা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রতন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তৃতীয় কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করা হলে ওসি তদন্ত ফোনটি রিসিভ করেন। তিনি জানান, ওসি সাক্ষ্য দিতে বাইরে গেছেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাঁদা দাবির চিঠির ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদক হিজলগাড়ি