বুধবার, ১৯ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় লাইসেন্সহীন ‘স্মৃতি প্যাথলজি’: অনিয়মে দুই বছরেও শেষ হচ্ছে না এক মাসের চক্র

ক্ষতিগ্রস্ত জেলার সাধারণ মানুষ, অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন অনেকে
  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০৮-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় লাইসেন্সহীন ‘স্মৃতি প্যাথলজি’: অনিয়মে দুই বছরেও শেষ হচ্ছে না এক মাসের চক্র

চুয়াডাঙ্গা শহরের হাসপাতাল রোডে অবস্থিত ‘স্মৃতি প্যাথলজি’ নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রায় তিন বছর ধরে কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। নীতিমালা উপেক্ষা করে একটি গোডাউনের ভেতর গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানে নেই ন্যূনতম স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। কাঠ-কড়ি ও ময়লা-আবর্জনায় ভরা দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশেই চলছে এর কার্যক্রম।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত বাজে ও অস্বাস্থ্যকর ল্যাবের পরিবেশ, যেখানে কোনো ল্যাব টেকনিশিয়ানকেও পাওয়া যায়নি। এমনকি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে পারেনি। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, বিগত প্রায় তিন বছর ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো লাইসেন্স নেই এর। সাংবাদিকরা বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহমান কোনো কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এতো বছর ধরে এভাবেই প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছি। আপনি কে দেখার? স্বাস্থ্য বিভাগ কিছু বলে না, আপনার কেন আমাকে কাগজপত্র দেখাতে হবে।’


এদিকে, মাসের পর মাস ধরে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্যখাতে তদারকির চরম অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ যোগদান করার পর থেকেই অভিযোগ উঠেছে, আইনগতভাবে ছাড় পাচ্ছেন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা। গণমাধ্যমকর্মীরা যখনই জেলা সিভিল সার্জনকে প্রশ্ন করেন, তখনি তিনি বিভিন্ন ক্লিনিকে এক মাসের সময় দেবার কথা জানান। তবে মাসের পর মাস পার হলেও সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদের এক মাসের চক্র শেষ হয় না।


এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেও আলমডাঙ্গা শহরে একটি ক্লিনিকের মালিক। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ আবারও সেই আগের গল্পই শোনালেন। তিনি বলেন, ‘এক মাস সময় দেয়া হয়েছে।’ জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ। তখন থেকেই তিনি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে এক মাস করে সময় দিচ্ছেন। তবে দু বছর পার হলেও সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদের দেয়া একমাস সময় শেষ হয়নি।


এই তদারকি ও নবায়নের বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মূল সমস্যা ছিল পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। একটা সময় পরিবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছিল না। গত বছর থেকে এ ছাড়পত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে পরিবেশের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এক মাস সময় দেয়া হয়েছে।’


তবে সিভিল সার্জনের এরূপ বক্তব্য শোনার পর নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ‘যেগুলো পরিবেশের ছাড়পত্র পাবার যোগ্য নয়। সেগুলো কীভাবে মেডিকেল কাজ করে। চিকিৎসাখাতে একটি বড় অনিয়ম হচ্ছে এই ব্যবসা। আর এর কারণেই সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ভুল রিপোর্টে ডাক্তারও ভুল চিকিৎসা দিচ্ছেন, আবার অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে রোগ নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে না।’


এসময় এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রশ্ন করেন, ‘যে পরিবেশের ছাড়পত্র পাবার যোগ্য নয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে দেয়া হচ্ছে। এটা বেআইনি। সিভিল সার্জন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সুবিধাভোগী হওয়া স্পষ্ট প্রমাণ দেখছি। তা না হলে দুই বছর ধরে সিভিল সার্জনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান থাকে না।’



কমেন্ট বক্স
notebook

অধ্যক্ষ আবু নাসির ও সভাপতি ইউসুফ সিন্ডিকেটের পাহাড়সম অনিয়ম