ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে যৌন নিপীড়নের কথিত অভিযোগ তুলে এক সহকারী শিক্ষককে 'মব' সৃষ্টি করে গণপিটুনি ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মূলত স্কুলের পুকুর লিজের টাকা ভাগাভাগি ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষকের পরিবার।
জানা গেছে, উপজেলার বড় বায়শা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে গত মঙ্গলবার অফিস কক্ষে ঢুকে বেধড়ক মারধর করে স্থানীয় ১০-১২ জন। পরে তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি ‘স্বাক্ষরবিহীন’ হাতে লেখা চিঠি জমা দেয়। খবর পেয়ে ইউএনও, ওসি ও শিক্ষা কর্মকর্তা গিয়ে শিক্ষককে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক অসংগতি ধরা পড়েছে।
শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী ছাত্রী বা তার প্রতিনিধির কোনো স্বাক্ষর ছিল না এবং মেয়েটি নিজে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেনি। এমনকি ছাত্রীর চাচা সৌরভ সরকারও স্বীকার করেছেন যে চিঠিটি তার ভাতিজির লেখা নয়; তবে কে লিখেছে তা তিনি জানেন না। অপরদিকে ছাত্রীর মা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
শিক্ষকের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ‘রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা স্কুলের পুকুর লিজের টাকা দাবি করেছিলেন। আমার স্বামী স্কুলের টাকা তাকে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সৌরভ সরকার ও সাবেক মেম্বার ইলিয়াস চক্র পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে যৌন নিপীড়নের নাটক সাজায়।’
যদিও অভিযুক্ত সাবেক মেম্বার ইলিয়াস মোল্লা তার বিরুদ্ধে ওঠা লিজের টাকা সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ জানান, হামলার ঠিক আগেই ইলিয়াস মেম্বার এসে তাকে সতর্ক করেছিলেন যে এলাকায় ঝামেলা হতে পারে।
এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে শিক্ষককে মারধর ও ভুয়া অভিযোগ তুলে হেনস্থার এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সচেতন মহল ও শিক্ষক সমাজ এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।
ঝিনাইদহের জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলেও স্কুলে ঢুকে শিক্ষকের ওপর হামলা আইন হাতে তুলে নেওয়ার শামিল। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝিনাইদহ অফিস