ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধ এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৭টি ব্যাটালিয়নের আওতায় ১১৬টি বিওপি থেকে প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব টহলের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, পাচার এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) ঝিনাইদহের মহেশপুর ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করেছে। দুই উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন ১০টি পেট্রোল পাম্পেও বিশেষ নজরদারি চলছে। সম্ভাব্য পাচার রুট চিহ্নিত করে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মতবিনিময় সভা এবং প্রশাসন, পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
গত ১৫ এপ্রিল জীবননগর ও মহেশপুরে পরিচালিত যৌথ টাস্কফোর্স অভিযানে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৮৭ লিটার ডিজেল ও ৭ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দুইজনকে যথাক্রমে ৫ ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া যশোর রিজিয়নের আওতাধীন বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দরে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। তেল পাচার প্রতিরোধে গত ৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ৬৩৩টি টহল, ৯৫০টি চেকপোস্ট এবং ৬৭টি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সময়ে ৪১টি টাস্কফোর্স অভিযানে অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দের পাশাপাশি ৩ জনকে কারাদণ্ড এবং কয়েকজন ডিলারকে মোট ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ৯৪৩টি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চলতি বছরে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে যশোর রিজিয়ন ৯৬ জন আসামিসহ প্রায় ৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে। এর মধ্যে স্বর্ণ, হীরা, রৌপ্য, অস্ত্র, মাদকদ্রব্যসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, ‘সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’ এই ভিশনকে সামনে রেখে বাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। ভবিষ্যতেও চোরাচালান ও অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক