শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
চুয়াডাঙ্গায় ডিজেল সংগ্রহে প্রত্যয়নপত্রের গেরো, ভোগান্তিতে কৃষক

চাষীর তেল ব্যবসায়ীর ঘরে, চড়া দামে বিক্রি

  • আপলোড তারিখঃ ১৭-০৪-২০২৬ ইং
চাষীর তেল ব্যবসায়ীর ঘরে, চড়া দামে বিক্রি

চুয়াডাঙ্গায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) যোগদানের পরদিনই কৃষি কাজে ব্যবহৃত ডিজেল বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কৃষি অফিসের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া কোনো কৃষক পাম্প কিংবা এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ডিজেল কিনতে পারবেন না। তবে মাঠ পর্যায়ের এই নতুন নিয়ম কৃষকদের জন্য আশির্বাদ না হয়ে উল্টো ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত চাষিরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেলেও কৃষি অফিসের প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করে খুচরা ব্যবসায়ীরা তেল মজুত ও চড়া দামে বিক্রি করছেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, কৃষি অফিসের অধীনে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (ঘওউ) ফটোকপির ওপর কোনো বিশেষ যাচাই ছাড়াই সাপ্তাহিক ২০-৩০ লিটার ডিজেল তেলের চাহিদাপত্র লিখে দেওয়া হচ্ছে। আর এই প্রত্যয়নগুলো এক শ্রেণির অসাধু খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে থেকে সংগ্রহ করে এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ডিজেল সরবরাহ করে তা চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন।


সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ কৃষকরা পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসছেন। আবার অনেকে যা পাচ্ছেন তাই সংগ্রহ করছেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ প্রত্যয়নপত্রের দোহাই দিয়ে তেল দিচ্ছে না। অন্যদিকে, গ্রামের এক শ্রেণির প্রভাবশালী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা নিজেদের আত্বীয়-স্বজনদের আইডি কার্ড দিয়ে প্রত্যয়নপত্র বাগিয়ে নিচ্ছেন। এই প্রত্যয়নপত্রগুলো ব্যবহার করে তারা এজেন্ট পয়েন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ তেল সংগ্রহ করছেন। পরবর্তীতে সেই তেল গ্রাম্য বাজারগুলোতে সাধারণ কৃষকদের কাছে লিটার প্রতি ১৩০-১৬০ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে চাষিরা পাম্পের বদলে চড়া মূল্যে দোকান থেকেই তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।


ভুক্তভোগী এক কৃষক জানান, ‘পাম্পে গেলে বলে পেত্যয়ন (প্রত্যয়ন) আনো। আর পেত্যয়ন আনতে গেলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পৌহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। আর যে পরিমাণ ডিজেল দেচ্চে, তা দিয়ে আমাদের কিচ্ছু হবে না। অথচ গ্রামের তেলের মহাজনরা ঠিকই তেলের ড্রাম ভরে আনছে। আমরা আমাদের কার্ড দিয়েও তেল পাচ্ছি না, কিন্তু তাদের দোকানে তেল ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে।’


এই বিষয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, প্রকৃত কৃষকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্যই প্রত্যয়নপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এই প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করে কেউ যদি তেলের কালোবাজারি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সাধারণ কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে এবং তেলের বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসনের উচিত সরাসরি এজন্টে পয়েন্ট ও পাম্পগুলোতে তদারকি বাড়ানো এবং প্রত্যয়ন পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ করা। অন্যথায়, সেচ মৌসুমে চড়া দামের কারণে চাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

চোরাচালান ও তেল মজুদে কড়াকড়ি, মাঠে সক্রিয় বিজিবি