হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে চুয়াডাঙ্গার কৃষিভাণ্ডারে নেমে এসেছে বিপর্যয়ের ছায়া। গত মঙ্গলবার রাতে মাত্র এক ঘণ্টার প্রবল ঝড়ো-বৃষ্টিতে জেলার ফসলের মাঠে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। প্রকৃতির এই আকস্মিক তাণ্ডবে ভুট্টা, বোরো ধান, পান ও আমের গুটিসহ বিভিন্ন ফসলের মাঠ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিশেষ করে ভুট্টার ক্ষেতগুলোর ক্ষয়-ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। অধিকাংশ জমির ভুট্টা গাছ ঝড়ের তোড়ে মাটির সঙ্গে নুয়ে পড়েছে, যা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৯৭ হাজার ৩৬৯ হেক্টর জমিতে আবাদকৃত ফসলের মধ্যে প্রায় ৩৯৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতির পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভুট্টা, যার পরিমাণ প্রায় ২৬৩ হেক্টর। এছাড়া ৬০ হেক্টর বোরো ধান, ৪১ হেক্টর কলা, ১১ হেক্টর পেঁপে, ৫ হেক্টর আম, ১২ হেক্টর সবজি এবং ৩ হেক্টর জমির পান চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের পরপরই কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে ফলনে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ও উৎপাদনের ওপর এর প্রভাব নিরুপণে কার্যক্রম শুরু করেছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, ‘হঠাৎ ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতে ফসলের মাঠ আক্রান্ত হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছেন। ৬০ হেক্টর বোরো ধান, ৪১ হেক্টর কলা, ১১ হেক্টর পেঁপে, ৫ হেক্টর আম, ১২ হেক্টর সবজি এবং ৩ হেক্টর জমির পান চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিক ধারণা করছি।’
এদিকে, ঝড়োবৃষ্টির কবলে পড়ে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ও ডালপালা ভেঙে পড়েছে। এতে রাতভর জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহায়তায় স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। বর্তমানে ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন কাজ করছে। জেলা প্রশাসন থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক