চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নয়মাইল পশু হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নিয়মিত কোনো ভেটেরিনারি চিকিৎসক না থাকায় বন্ধ রয়েছে পশু চিকিৎসা সেবা। স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, হাসপাতালটি এখন আর চিকিৎসাকেন্দ্র নয়- বরং প্রাঙ্গণে বসছে ছাগলের হাট, গড়ে উঠেছে দোকানপাট, আর মূল ভবনে ঝুলছে তালা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলছে। ভেতরে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জাম অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ভবনের চারপাশের খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে ছাগল কেনাবেচার হাট বসছে। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের জায়গা দখল করে কয়েকটি দোকানও গড়ে উঠেছে, যা সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ভুলটিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, এখানে কোনো ডাক্তার আসে না। গরু-ছাগল অসুস্থ হলে আমাদের দূরের উপজেলা শহরে নিতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি খরচ হয়। বোয়ালিয়া গ্রামের খামারি জামাল হোসেন জানান, ‘হাসপাতাল আছে নামেই। দরজায় সব সময় তালা ঝুলে থাকে। চিকিৎসা তো দূরের কথা, কোনো খোঁজখবরও নেই।
খামারিরা বলেন, ইউনিয়নে গবাদিপশুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা না থাকায় সামান্য রোগেও পশু মারা যাচ্ছে। এতে প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত একজন স্থায়ী ভেটেরিনারি চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত সেবা চালু করতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের দখলমুক্তকরণ, প্রাঙ্গণের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অবকাঠামোর সংস্কার জরুরি বলে তারা মনে করেন। কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, নয়মাইল পশু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ইউনিয়নের খামারিদের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ এসেছে। পশু চিকিৎসা সেবা না থাকায় গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর চিকিৎসায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অতি দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে। খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেদক সরোজগঞ্জ