চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১০টায় জেলা প্রশাসকের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সঞ্চালনায় সভায় গত জানুয়ারি মাসের কার্যবিবরণী পাঠ করেন সহকারী কমিশনার এস.এস.এম আব্দুর রউফ শিবলু।
এসময় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন মাথাভাঙ্গা নদী দূষণের বিষয় তুলে ধরে বলেন বলেন, মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাতে হবে। মাথাভাঙ্গা নদীকে বাঁচানোর জন্য পৌরসভাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। সরকারি বা বেসরকারি দপ্তরের ময়লা পানির লাইন যেগুলো মাথাভাঙ্গার সাথে সংযুক্ত, অতিদ্রুত সরিয়ে ফেলুন, নতুবা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হবে। সকলে ভেবে নেবেন চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী নেই, এবার আপনি আপনার প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ির ময়লা পানির যে ব্যবস্থা করবেন করেন। তবে মাথাভাঙ্গা আর দূষণ করা চলবে না।
তিনি আরও বলেন, স্কুলে ফলের গাছ লাগাতে হবে, শিক্ষার্থীরা ফল খাবে, ফল চিনবে। চুয়াডাঙ্গার রাস্তার দুইপাশে গাছ ও ঘাস লাগাতে হবে, এতে ধুলো বালি কম ছড়াবে। এছাড়াও ফসলি জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। ফসলি জমি নষ্ট করে অফিস বানানো যাবে না। এভাবে ফসলি জমি নষ্ট হতে থাকলে আপনারা খাবেন কি?’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নার কথা তুলে তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থাকবে পরিষ্কার, কিন্তু তেমনটা হয় না। কিছুদিন আগে আমি হাসপাতালে কম্বল বিতরণ করতে গিয়েছিলাম, সেখানে গিয়ে দেখি হাসপাতালের খুব খারাপ অবস্থা। হাসপাতাল পরিষ্কার না থাকলে তো রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে যাবে। যদি এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য আমার কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, জানাবেন। আমি সার্বিক সহযোগিতা করব।’
এসময় স্থানীয় সরকারের উ-পপরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, ‘এবারের নির্বাচনটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষভাবে হয়েছে। সাধারণ মানুষ খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন। মানুষ নির্বাচন কেন্দ্রীক যে সমস্যাগুলো অনুভব করতো, তা নিরসন হয়েছে।’ ডিসি মোহাম্মদ কামাল হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে আপনি রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরই যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, আমরা আপনার সেই নির্দেশনা মোতাবেক, আমাদের নির্বাচন কেন্দ্রীক সময়ে শুধুমাত্র শহর কেন্দ্রীক নয়, যেগুলো ব্লক স্পর্ট হিসেবে পরিচিত হতে পারে বা যেসব প্রত্যন্ত এলাকায় লাইটের ব্যবস্থা নেই সেখানে লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ মানুষকে সবসময় যথাযথভাবে সেবা দিয়ে যাবে। এবং এবার ৪৮তম বিসিএসে নবীন চিকিৎসক নিয়োগ হবে ১৯ তারিখে। এখানে আমাদের ৩টা উপজেলাতে ২১ জন চিকিৎসক পেয়েছি। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে আমাদের চিকিৎসকের যে ব্যাপক ঘাটতি ছিল, সেটা পূরণ হবে বলে আশা রাখছি। এবং প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবার আরো উন্নতি ঘটবে।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার শাহাবুদ্দিন আহমেদ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক দীপক কুমার পাল, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীদ্র কুমার মণ্ডল, জেলা শিক্ষা অফিসার জেসমিন আক্তার, তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সুজাত কাজী, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহ-পরিচালক নরেশ চন্দ্র পাল, জেলা ক্রীড়া অফিসার সেলিম রেজাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী কর্মকর্তাগণ ও সাংবাদিকবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক