আলমডাঙ্গা উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ইটভাটা মালিককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহত ব্যক্তির নাম গাফফার ফারাজি। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদি ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের নবিছদ্দিন ফারাজির ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে একজন ইটভাটা মালিক হিসেবে পরিচিত।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে আদালতের নির্দেশে জমি সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছিল। গতকাল গাফফার ফারাজি তাঁর নিজস্ব ইটভাটায় অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব বিরোধের জেরে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ভোলাডাঙ্গা এলাকা থেকে লোকজন নিয়ে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ইটভাটার ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা হাতুড়ি, দা ও বাঁশের লাঠি দিয়ে গাফফার ফারাজির ওপর বেধড়ক মারপিট চালায়। মারধরের ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ভাটার কর্মচারীরা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হারদি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন বছর আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গাফফার ফারাজি আদালতে একাধিক দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলোর নম্বর ১৩৭, ২৫৪ ও ২৭৮। সেই মামলাগুলোর বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ভোলাডাঙ্গা গ্রামের সোনা ফারাজির ছেলে মাসুম ফারাজি (৪৫), মৃত বরকত ফারাজির ছেলে মইজ উদ্দিন ফারাজি (৫৬), আইজ উদ্দিনের ছেলে মুলাম আলী (৩৮), মৃত বরকত ফারাজির ছেলে আইজ উদ্দিন ফারাজি এবং মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে আশাদুল ইসলাম (৪০)।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলমডাঙ্গা অফিস