চুয়াডাঙ্গার জীবননগর-রাজাপুর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই মাদকপাচারের রুট হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে—সীমান্তের এই স্থায়ী মাদকচক্র কি নতুন করে শক্তি অর্জন করছে? মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক চক্রের তৎপরতা এখন আগের তুলনায় আরও সংগঠিত ও বেপরোয়া।
গতকাল শনিবার ভোরে ভারতের অভ্যন্তরে হেন্তের বিল এলাকায় দুই বাংলাদেশিকে মাদকসহ আটক করে নিয়ে যায় বিএসএফ। আটককৃতরা হলেন— জীবননগর মনোহরপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ফকিরপাড়ার সন্তোর ছেলে রকো হোসেন (৩০) ও রাজাপুর মসজিদ পাড়ার খোদাবক্সের ছেলে রাশিদুল দুলি (৩৩)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাসার ও হায়াতের ফেনসিডিল স্বর্ণ ও ইয়াবা জোন হিসাবে বহন করে আসছে রকো ও দুলি। শনিবার ভোরে ভারতের সীমান্তের হেন্তের বিল থেকে মাদকসহ ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর মেটিরি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তার করেন।
মহেশপুর-৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃতরা শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতের ৫০ গজ ভেতরে মাদকসহ ঢোকার সময় আটক হয়। বিএসএফ জানিয়েছে—তাদের ভারতীয় পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাজাপুর গ্রামের দুই ‘চিহ্নিত’ মাদক ব্যবসায়ী বাশার ও হায়াতের নাম। বাশার—মনোহরপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মৃত ভূটের ছেলে, হায়াত একই গ্রামের ছেলে।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় বোড়পাড়ার মাদকব্যবসায়ী সোহরাব ও ইয়ারুলের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে রাসেল নামের এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল-ইয়াবার বড় চালান আনতেন সীমান্তে চোরাপথ ও সময়সূচি” নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি
জীবননগর থানা সূত্রে জানা গেছে, বাশারের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। একটি মামলায় পুলিশের সাবেক এসআই সাজ্জাদ হোসেন ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় বাশারের নাম উঠে আসলে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক থাকেন। গ্রেপ্তার ও কারাভোগ শেষে এখন আবারও এলাকায় নীরবে সক্রিয় হয়েছেন বলে অভিযোগ। সীমান্তে পুরনো চক্রের পুনরুত্থান?
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাসারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার নামে বেশ কয়েকটি মামলা আছে আমি আগে মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িত ছিলাম। কিন্তু এখন আর আমি এই ব্যবসা করি না। ভারতে আটককৃত মাদক হায়াতের।
সীমান্তের বাসিন্দাদের অভিযোগ—বছরের পর বছর ধরে মাদক প্রতিরোধে বড় ধরনের অভিযান না হওয়ায় চক্রগুলো নিজেদের নেটওয়ার্ক আরও মজবুত করেছে।
বিজিবি ও থানাুপুলিশ দুই সংস্থাই নজরদারি বাড়ানোর কথা জানালেও সীমান্তের চোরাপথ নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। বিজিবির একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, মাদকচক্রগুলো দুই দেশের সীমান্তে দুই পাশেই নিজেদের নিরাপদ ঘাঁটি তৈরি করে রেখেছে। এর সঙ্গে স্থানীয় যোগাযোগ ছাড়া এমন ব্যবসা পরিচালনা অসম্ভব।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা সহকারী পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আন নাসের বলছেন— মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নয়। বড় চক্রের হোতাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলছে—প্রতিদিন রাতেই সীমান্তে স্রেফ আলোুআঁধারির খেলা চলছে। কারা আসে, কী আনে, কোথায় যায়—সবাই বোঝে, কিন্তু ভয় ও চক্রের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
প্রধান সম্পাদক