ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে গরু চুরি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়েছেন মহসিন (৪৭) নামের এক চোর। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। গতকাল বুধবার ভোরে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক চোর মহসিন কুষ্টিয়া জেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার মধুপুর গ্রামের আসালদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ইজাহারের ছেলে পিনুর বসতবাড়ির গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির উদ্দেশ্যে ডাকাতদল ভেতরে ঢোকে। বিষয়টি টের পেয়ে গৃহকর্তা পিনু তাৎক্ষণিক চিৎকার শুরু করলে আশপাশের গ্রামবাসী দ্রুত ছুটে এসে চারপাশ ঘিরে ফেলে। এসময় অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মহসিনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে ক্ষুব্ধ জনতা। উত্তেজিত গ্রামবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে নিকটস্থ চরপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহসিন স্বীকার করেছে যে, তাদের এই দলে আরও ৬ থেকে ৭ জন সদস্য ছিল।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বশির উদ্দীন জানান, ‘রঘুনাথপুর গ্রামের মানুষ অত্যন্ত সতর্ক থাকায় বড় ধরনের অপরাধ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। আটক মহসিনের দেওয়া তথ্য ধরে এই সংঘবদ্ধ চোর দলের বাকি সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনতে পারলে এলাকায় গরু চুরি ঠেকানো সম্ভব হবে।’
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার রাজিয়া খাতুন বলেন, ‘গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেভাবে অপরাধীকে প্রতিরোধ করেছে তা প্রশংসনীয়। তিনি চোর দলের সদস্য মহসিনের সহযোগীদের অবিলম্বে আটক করে এই অঞ্চলের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানান।’
এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি মাসুম বিল্লাহ জানান, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় ক্যাম্পের এসআই মুকুল রঞ্জন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মারাত্মক আহত অবস্থায় মহসিনকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে সে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
ঝিনাইদহ অফিস