চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বন্দরভিটায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আল হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইনামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দের পর গতকাল বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল।
অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের ৩ নভেম্বরের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই দিন আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বিএসআর) পার্ট-১-এর ৭৩ নম্বর বিধির নোট-২ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের দিন ৩ নভেম্বর থেকে তাঁর সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল বলেন, স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের দিন থেকেই তাঁর সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২ নভেম্বর) বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক অশোভন আচরণ করেন এবং তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকে রাখেন। এসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
প্রতিবেদক হাটবোয়ালিয়া