দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সমন্বয়ক কমিটির সদস্য, দর্শনা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং দর্শনা প্রেসক্লাবের সাবেক উপদেষ্টা হাজী খন্দকার শওকত আলী (৬৮) আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অসুস্থ হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন হাজী খন্দকার শওকত আলী। অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যান। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দর্শনা পৌর বিএনপির নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দলীয় নেতা-কর্মী, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাক্সক্ষী ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা মরহুমের বাড়িতে ছুটে যান এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
মঙ্গলবার বাদ আছর দর্শনা বাজার মাঠে হাজী খন্দকার শওকত আলীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে দর্শনা মোবারকপাড়া কবরস্থানে বেদনা-বিধুর পরিবেশে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
জানাজা ও শোকসভায় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ওহেদুজ্জামান বুলা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল হাসান তনু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাশেম রেজা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলু রহমান, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মেদ আলী, চুয়াডাঙ্গা বারের পিপি অ্যাডভোকেট শাহাজাহান মকুল, এপিপি আব্দুর রউফ, দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, সমন্বয়ক আলহাজ্ব মশিউর রহমান, দর্শনা কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ও সমন্বয়ক এনামুল হক শাহ মুকুল, সমন্বয়ক ইকবাল হোসেন এবং সাংবাদিক শরীফ উদ্দীন।
এসময় জেলা, উপজেলা ও থানা বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দর্শনা বাজার কমিটির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রতন এবং দর্শনা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, দর্শনা পৌর এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হাজী খন্দকার শওকত আলীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর রাজনৈতিক অবদান দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন।
এদিকে হাজী খন্দকার শওকত আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে দর্শনা প্রেসক্লাব ও দর্শনা সাংবাদিক সমিতি। প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন এবং সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোক প্রকাশকারীদের মধ্যে আরও রয়েছেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, জাহিদুল ইসলাম, হানিফ মন্ডল, সহসাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল মেহমুদ, উসমান আলী, আহসান হাবীব মামুন, হাসমত আলী, রাজিব মল্লিক, মোস্তাফিজুর রহমান কচি, ওয়াসিম রয়েল, ইমতিয়াজ আহমেদ রয়েল, সুকোমল চন্দ্র দাশ বাধন ও আবিদ হাসান রিফাত।
শোকবার্তায় তারা বলেন, হাজী খন্দকার শওকত আলীর সঙ্গে দর্শনার সাংবাদিক সমাজের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল। দর্শনা প্রেসক্লাবের সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে দর্শনার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক অঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
দর্শনা অফিস