শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

এমপি পদ গেল মিষ্টির, কঠোর বার্তা বিএনপির

  • আপলোড তারিখঃ ০২-১০-২০২৬ ইং
এমপি পদ গেল মিষ্টির, কঠোর বার্তা বিএনপির

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হামলা, ভাঙচুর ও অবৈধ দখলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়ানোর মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্নকারীদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ ছাড়তে হয়েছে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে। এর মাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ালে ছাড় নেই, দলের নেতা-কর্মীদের এমন কঠোর বার্তা দিল ক্ষমতাসীন দলটি।


গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। পতদ্যাগপত্রটি সঙ্গে সঙ্গেই গৃহীত হওয়ায় গতকালই জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার আসন (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩) শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সংবিধান অনুযায়ী গতকালই পদত্যাগের গেজেট নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির শূন্য হওয়া সংরক্ষিত আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন হবে।


ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর জাতীয় সংসদের টানেলে জরুরি সংব্রাদ ব্রিফিংয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি আমার অফিসে এসে লিখিতভাবে পত্র দিয়ে গিয়েছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে।’ পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, সংসদের বিধান হলো- কোনো এমপি যখন পদত্যাগ করেন, তখন কোনো কারণ উল্লেখ করেন না। এর আগে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে ফেরদৌসী আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে স্পিকার  ডেকেছেন, তার সঙ্গে দেখা করেছি।’


পাঁচ মাসের মাথায় এমপি পদ ছাড়তে হলো:
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বিএনপির প্রয়াত সাবেক এমপি ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন পিণ্টুর বোন এবং সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত মিরপুরের প্রাক্তন ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদুর রহমান নিউটনের স্ত্রী। তিনি বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৫০। সংবিধান অনুসারে, জাতীয় সংসদে দলগুলোর সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংখ্যার অনুপাতে নারী আসন বণ্টন করা হয়। বিএনপির মনোনয়নে এবার ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হয়েছেন।
গত ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের গেজেট হয়। আর ৩ মে তারা শপথ  নেন। এ হিসাবে মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হলো ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে। বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদের এখন পর্যন্ত ৩৪৯ জন (সংরক্ষিত ৫০টি আসনসহ) সংসদ সদস্যের মধ্যে এই প্রথম কোনো একজন এমপিকে পদত্যাগ করতে হলো। এমনকি, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে এই প্রথম সংরক্ষিত আসনের কোনো নারী সদস্যকে এমপি পদ হারাতে হয়েছে।


বুধবার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী:
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে গতকালই এমপি পদ ছেড়েছেন মিষ্টি।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাটের পর ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়। রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আলোচনায় আসে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নাম। তাদের এ কার্যক্রমেও স্থানীয় বিএনপির কয়েক জন যুক্ত বলে তথ্য পাওয়া  গেছে। ফেরদৌসী আহমেদ ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। তখন ওই সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে সভাপতি হিসেবে সই করেছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ।


মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে আইনি পদক্ষেপ :
গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে নিয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না। এদিকে, বিএনপি ও সরকারের সূত্রগুলোর ভাষ্য, হামলা-ভাঙচুর-অবৈধ দখল-চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মতো অপকর্মে দলীয় নেতা-কর্মীদের কারো কারো জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সরকার বেশ বিব্রত। বিশেষ করে, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও-কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুরসহ গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুর-অবৈধ দখলের ঘটনায় সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন প্রচলিত রাজনীতি ও সরকার পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন, তখন এসব ঘটনায় নিজ দলের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার ঘটনায় সরকারের পাশাপাশি বিএনপিও বড় ধরনের অস্বস্তিতে পড়েছে।


বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে প্রতিটি ঘটনায় দলের কারা কারা জড়িত, কাদের ইন্ধন রয়েছে- এসব খতিয়ে দেখতে বিএনপি অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত শুরু করছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। হামলা-ভাঙচুর-অবৈধ দখল-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসে জড়ালেই দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। প্রয়োজনে দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সংশ্লিষ্ট কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে। ক্ষেত্রবিশেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনি পদক্ষেপও। ফেরদৌসী আহমেদের পরিণতি সেটিরই প্রতিফলন।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুরসহ গত কয়েক দিনের ঘটনাগুলোতে স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়।

তথ্য নেন প্রধানমন্ত্রী:
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানায়, রাড্ডার ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দুই দিন ধরে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। হামলা ও ভাঙচুরে কারা জড়িত ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নেপথ্যে কারা ভূমিকা রেখেছেন, এসব বিষয়ে তিনি তথ্য নেন। অভ্যন্তরীণ তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাকে সংসদ সদস্য পড় ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জানা গেছে, এমপি পদ ছাড়লেও মিষ্টির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে আরো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকি তদন্তে যার নামই আসুক, সরকার তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই সরকারের সময়ে কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না। অপরাধ প্রমাণিত হলে সবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার।



কমেন্ট বক্স
notebook

জীবননগর সীমান্তে ৫৮ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপ ও কীটনাশক জব্দ