বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনে চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুতিমূলক সভা

এবার জেলার ১১৬ মণ্ডপে পূজা, থাকছে কঠোর নিরাপত্তা
  • আপলোড তারিখঃ ০৭-১০-২০২৬ ইং
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনে চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুতিমূলক সভা

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলায় এবার মোট ১১৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ও নাইটভিশন ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিজয়া দশমীর দিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। সভায় জানানো হয়, এ বছর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩৩টি, আলমডাঙ্গায় ৩৯টি, দামুড়হুদায় ২০টি এবং জীবননগরে ২৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় সর্বাধিক ৩৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।


সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ও নাইটভিশন ক্যামেরা স্থাপন এবং পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ইভটিজিং প্রতিরোধে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশপথ বা লাইনের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।


সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আজানের সময় থেকে নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মণ্ডপে ঢাক-ঢোল ও সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে বিজয়া দশমীর দিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


সভায় আরও বলা হয়, রাতে প্রতিমা অরক্ষিত অবস্থায় না থাকে, সে জন্য পূজা উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করতে হবে। মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে হবে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপের আশপাশে বড় ধরনের মেলা আয়োজন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কোনো মণ্ডপে যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’


তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় অনেকেই গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে থাকে। এবার এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করতে হবে এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করতে হবে। রাতে প্রতিমা অরক্ষিত থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা চাই, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চুয়াডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হোক।’


সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জাতীয় গোয়েন্দা নিরাপত্তা সংস্থার সহকারী পরিচালক এস এম তারিকুল, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উত্তম রঞ্জন দেবনাথ, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক উৎপল বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটির সদস্য ও জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় অস্বচ্ছল ৬ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চিকিৎসা সহায়তার চেক প্রদান