আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন ছাড়া কারও ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লেখার সুযোগ নেই। অথচ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রকাশ্যে রোগী দেখছেন এবং নিয়মিত প্রেসক্রিপশন লিখছেন বিএমডিসি নিবন্ধনহীন দুই ইন্টার্ন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। এমনকি হাসপাতাল প্রশাসনও স্বপ্রণোদিত হয়ে তাঁদের এই বেআইনি কাজের ‘মৌখিক অনুমতি’ দিয়েছে, যা সরকারি স্বাস্থ্যসেবার নিয়মনীতি ও বিদ্যমান আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১১৯ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন মেহেদি হাসান ও জান্নাত আরা নামের দুই ইন্টার্ন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। তাঁরা দুজনেই ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) শেষ করে বর্তমানে ইন্টার্নশিপ করছেন। মেহেদি হাসান শ্যামলি ম্যাটস ও জান্নাত আরা টুঙ্গিপাড়া ম্যাটসের শিক্ষার্থী। টিকিট কেটে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা চিকিৎসকের বদলে তাঁদের কাছ থেকেই ব্যবস্থাপত্র নিচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৩১ জন ইন্টার্ন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট কর্মরত রয়েছেন, যাঁদের মূল দায়িত্ব মূল চিকিৎসকদের কাজে সহায়তা করা। কিন্তু অন্য সবাইকে পাশ কাটিয়ে এ দুজনকে বিশেষ সুবিধায় বহির্বিভাগের কক্ষে বসে স্বাধীনভাবে রোগী দেখা ও প্রেসক্রিপশন লেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই দুই ইন্টার্ন বলেন, হাসপাতালের আরএমও ও তত্ত্বাবধায়ক তাঁদেরকে রোগী দেখার মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিকভাবে এ ধরনের অনুমোদন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার। তিনি বলেন, 'হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকায় মৌখিকভাবে দুইজন ইন্টার্ন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টকে সাধারণ রোগী দেখার অনুমতি দেয়া হয়েছে৷ গুরুতর কিছু হলে তারা রেফার্ড করবেন। আর তাদের যতটুকু ক্ষমতা, ততটুকুই তারা লিখছেন।' তবে বিএমডিসি আইনের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) ডা. আবু আহমেদ আল মামুন বলেন, 'যাঁদের বিএমডিসি নিবন্ধন হয়নি, তারা প্রেসক্রিপশন করতে পারবেন না।
বিএমডিসি নিবন্ধন হওয়া এবং নিবন্ধন নাম্বার পাওয়া না পর্যন্ত কেউ প্রেসক্রিপশন করতে পারবে না। ঢাকা মেডিকেল থেকে পাশ করে বের হলেও প্রেসক্রিপশন করতে হলে বিএমডিসি নিবন্ধন করা লাগবে।' চিকিৎসক সংকটের অজুহাতে মৌখিক আদেশে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইন্টার্নদের দিয়ে প্রেসক্রিপশন লেখানোর এই চর্চা রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থার আইনি বৈধতাকেই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক