বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন

উন্নত ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সাক্ষরতার ওপর গুরুত্বারোপ
  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০৯-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন

‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’- এই প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোর্ট মোড় হয়ে পুনরায় জেলা প্রশাসন চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


আলোচনা সভায় জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৮ শতাংশ। চুয়াডাঙ্গা জেলায় সাক্ষরতার হার ৭১ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং নারীর ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ। সভায় বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাক্ষরতা মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে, চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটায় এবং অধিকার সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে। টেকসই সমাজ, দক্ষ মানবসম্পদ ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।


সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সাক্ষরতা বলতে আমরা বুঝি লিখতে-পড়তে পারা এবং এর অর্থ বোঝার ক্ষমতা। একটি উন্নত, জ্ঞানভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সাক্ষরতার গুরুত্ব অপরিসীম। সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জন বা নাম স্বাক্ষর করতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, দক্ষতা, সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে এবং সমাজকে এগিয়ে নেওয়াই প্রকৃত সাক্ষরতার লক্ষ্য।’’


তিনি বলেন, বর্তমান বিশ^ প্রযুক্তিনির্ভর। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে। যারা এখনো শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদেরও সাক্ষরতার আওতায় আনতে হবে। কেউ যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


লুৎফুন নাহার আরও বলেন, বিশেষ করে নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের প্রতিটি জেলাকে একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও সচেতন জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের একার পক্ষে শতভাগ সাক্ষরতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, দারিদ্র্য বা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কোনো মানুষ যেন শিক্ষার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।


নিরক্ষরতার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, নিরক্ষর মানুষ সহজেই প্রতারণার শিকার হন। পড়তে ও লিখতে না পারার সুযোগ নিয়ে অনেককে জমিজমাসহ বিভিন্ন সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়। অন্যদিকে, পড়তে-লিখতে জানা মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি সচেতন থাকেন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন।


সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শারমিন সেলিনা আজহার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান, কালেক্টর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সোলাইমান হোসেন, শিক্ষার্থী মাইসা মালিহা ও তালহা জুবাইয়ের প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


এদিকে, ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দামুড়হুদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এসে শেষ হয়।


উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, দামুড়হুদার আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, এনজিও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা কেবল অক্ষরজ্ঞান নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই সমৃদ্ধির ভিত্তি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (ঝউএ) অর্জনে শতভাগ সাক্ষরতার কোনো বিকল্প নেই। নিরক্ষরতা দূরীকরণে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।


আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হাসান, একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলাম, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মহলদারসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক ও সুপারভাইজারগণ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


অপর দিকে, ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সর্বজনীন শিক্ষার প্রসার, নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।


    গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচির শুরুতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশ নেন।
    র‌্যালি প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান, সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন এবং ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ স্থানীয় শিক্ষা ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
    সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একটি সচেতন, আত্মনির্ভরশীল ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার প্রাথমিক ভিত্তি হলো সাক্ষরতা। মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষা, পরিবেশ ও সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনে আধুনিক ও কার্যকর সাক্ষরতার প্রসারের কোনো বিকল্প নেই।’


    ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান বলেন, বর্তমান যুগের রূপান্তরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাক্ষরতার আধুনিক সংজ্ঞা নিশ্চিত করতে হবে। কেবল নাম দস্তখত বা মৌলিক বর্ণ পরিচয় শেখানোই শেষ কথা নয়; বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সাক্ষরতার প্রসার ঘটাতে হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ অঞ্চলের যেসব শিশু সামাজিক বা অর্থনৈতিক কারণে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে অতি দ্রুত শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।


    সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান উল্লেখ করেন, একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আলোকিত ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার মূল হাতিয়ার হলো গুণগত শিক্ষা ও সাক্ষরতা। সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

১ লাখ সদস্যের পরিবার ‘দৈনিক সময়ের সমীকরণ’ অনলাইন পেজ