মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিককে মারধর, আটকে রাখা এবং মোবাইল ও সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের মামলায় মূল দুই অভিযুক্ত শিক্ষক ও এক পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে মেহেরপুর শহরের নিমতলা এলাকা থেকে দুই শিক্ষককে ও শনিবার দিবাগত রাতে ওই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গাংনী ও মেহেরপুর থানা পুলিশ ও মেহেরপুর ডিবি পুলিশের পৃথক দল অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বিপ্লব ও রফিকুজ্জামান বাবর আলী। তারা এ মামলার এজাহারভুক্ত ১ ও ২ নাম্বার আসামি। এর আগে গত শনিবার তেঁতুলবাড়িয়া এলাকা থেকে খায়রুজ্জামান ওরফে আকামত নামে মামলার এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মামলার এজাহার ও সাংবাদিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ধারণ করতে যান নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ ও দৈনিক খবরের কাগজের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি তারেক হোসেন। এসময় তাদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের দুটি মোবাইল ফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় দুই শিক্ষকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় মামলা হয়। মামলার নম্বর ৪৬/২৬। এতে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৭৯, ১১৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গাংনী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদক মেহেরপুর