মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কালীগঞ্জ হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ’
  • আপলোড তারিখঃ ০৪-০৮-২০২৬ ইং
কালীগঞ্জ হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকা সত্ত্বেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের বিপুল অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুনে যোগদানের পর থেকেই কোনো মালামাল ক্রয় না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে তিনি কয়েক লাখ টাকা পকেটস্থ করেছেন বলে জানা গেছে।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার, মনিহারি বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার ও ৫০ হাজার, সেপটিক ট্যাঙ্কি পরিষ্কারে ৩০ হাজার, আসবাবপত্র মেরামত ও ক্রয়ে যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ৫৫ হাজার, কম্পিউটার মেরামতে ৪৫ হাজার, স্ট্যাম্প-সিলে ২২ হাজার, অফিস সরঞ্জামে ১৩ হাজার এবং পরিষ্কার সামগ্রীতে ৮ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ বিধি অনুযায়ী ব্যয় করা হয়নি। স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান বিল-ভাউচারের কেনাকাটার কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। সরজমিনে পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে নোংরা পরিবেশ দেখা গেছে।  


অভিযোগ রয়েছে, ডা. মামুন যোগদানের পর প্রশাসনিক ও সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। নিয়মিত সময়মতো অফিসে না আসা, অধস্তন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও দালাল-ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য রুখতে তিনি উদাসীন। এমনকি চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণ কুমার দাস অফিস ফাঁকি দিয়ে বাইরে কাজ করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে তার প্রচার চালানো হয়। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া আদায় এবং রোগীদের থেকে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের টাকা নেওয়ার বিষয়টিও তিনি চেপে যান।


হিসাবরক্ষক আব্দুল আজিজ জানান, তাকে হিসাবের সব কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। সম্প্রতি এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে মারধরের ঘটনার পেছনেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে জানান, কেনাকাটার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। 


এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের প্রমাণ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।’ খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে কালীগঞ্জ হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান ফেরাতে দুর্নীতিগ্রস্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীসমাজ।



কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরে ‘গানে গানে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা