বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মধ্যে পুরোনো রাজনৈতিক সমঝোতা নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহের নতুন হাটখোলা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ঝিনাইদহ সফররত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সকালে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের শাসনামলে বিএনপিই সবচেয়ে বেশি নির্যাতন, হামলা, গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বাস্তবতা হচ্ছে, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সুপ্ত সম্পর্ক এখন প্রকাশ পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষও তা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। অনেক স্পর্শকাতর ইস্যুতে জামায়াতকে আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় ও নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে।’
বর্তমান সরকারকে জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত বর্তমানে যে অযৌক্তিক লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে, সরকার তাতে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে না। এটিই সরকারের গণতান্ত্রিক সহনশীলতার প্রমাণ।’ বিগত নির্বাচনের অনিয়ম প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেন, ‘যদি কোনো নির্বাচন প্রকৌশল বা কৌশল প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে তা জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পক্ষেই গেছে। সচেতন জনগণ বিশ্বাস করে না যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাধারণ মানুষের প্রকৃত জনমতে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে গেছেন।’
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিষয়ে নিজ দলের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, বিএনপি যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতারা আওয়ামী লীগের ক্যাডার ও স্বার্থান্বেষী মহলকে সুরক্ষা দিয়ে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট তৈরি করছে। অন্যদিকে, বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই সঙ্গে সঙ্গেসাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ঝিনাইদহের একটি স্থানীয় সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরপরই বিএনপির নেওয়া দ্রুত পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
সীমান্ত পারের রাজনৈতিক বক্তব্যের সুর মেলানোর অভিযোগ এনে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে দিল্লি থেকে শেখ হাসিনা যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন, জামায়াত আমীরের মুখেও একই সুর শোনা যাচ্ছে। এমনকি ছাত্রলীগ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক ভাষার মধ্যে আর কোনো তফাত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দুটি রাজনৈতিক দলের যৌথ চক্রান্ত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামলে সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে। তাই অনর্থক অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা বন্ধ করে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে জামায়াতে ইসলামীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’ সংবাদ সম্মেলনে এ সময় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মজিদসহ জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ অফিস