পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭৬ বোতল মাদকদ্রব্য ইস্কাফসহ দামুড়হুদার ছোটদুধপাতিলা গ্রামের নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা-পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাদকের বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার এএসআই আবু সাঈদ শুভ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে নিরাপত্তামূলক ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি মুলাডুলি রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার সময় “গ” নম্বর বগিতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়। এসময় বগির পূর্ব পাশের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখা দিলে তাকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে নারী কনস্টেবল সিলভিয়া বেসরার সহায়তায় তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে ধৃত নারী দামুড়হুদা উপজেলার ছোট দুধপাতিলা গ্রামের আক্তার হোসেন এর স্ত্রী নাজমা খাতুন (৪৫), তার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৩২ বোতল কোডিনযুক্ত ‘ইস্কাফ’ (ঊঝশঁভ) এবং শরীরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা কাপড়ের পকেট থেকে ৪৪ বোতল কোডিনযুক্ত ‘উইংস’ (ডওঘএঝ) নিজ হাতে বের করে দেন।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ৭৬ বোতল কোডিনযুক্ত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৪(গ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার পুলিশ।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান জানান, আটক আসামিকে গতকাল বুধবার বিজ্ঞ আদালত সোপর্দ করা হয়েছে। রেলপথে মাদক পাচার রোধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক দামুড়হুদা