শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

প্রশাসনে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সরকার

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনে গতি আনতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছিল সরকার। এ লক্ষ্যে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। নেওয়া হয় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এসব কর্মকর্তা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০৭-২০২৬ ইং
প্রশাসনে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সরকার

প্রশাসন ঢেলে সাজাতে দক্ষ, সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের। নতুন সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষে নিচ্ছে নানা পদক্ষেপ। প্রশাসনে বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তাদের কর্ম দক্ষতা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সরকার। আর কয়েকদিন পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ছয়মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনে গতি আনতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছিল সরকার। এ লক্ষ্যে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। নেওয়া হয় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এসব কর্মকর্তা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি অংশ নতুন সরকারের সঙ্গেও দ্রুত সখ্য গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ বঞ্চিতদের।


এ কারণে জিয়ার আদর্শের কর্মকর্তাদের প্রশাসন থেকে দুরে সরে রাখা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে না তাদের পদায়ন ও পদোন্নতি। প্রশাসনে পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রেষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এখনো এসব কর্মকর্তার প্রভাব রয়েছে। প্রশাসনে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। এবার ১৮০ দিনের পরে এ বলায় ভাঙ্গতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বিগত আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো। পাশপাশি দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের পদায়ন করা। এর অর্থ হচ্ছে, প্রশাসনে গতি ফিরিয়ে আনা।


সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে সে সম্পর্কে ধারনাপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়। আর কয়েকদিন পর নতুন সরকারের নেওয়া ১৮০ দিনের কর্মসূচি সমাপ্তি হবে। কিন্তু বিশেষ কর্মসূচির মধ্যেও প্রশাসনে কাক্সিক্ষথ গতি ফিরে আসেনি বলে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে মনে হয়েছে। এরইপ্রেক্ষিতে বিশেষ কর্মসূচি শেষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ অধিদপ্তরে দক্ষ, সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। এ জন্য প্রশাসন ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে সৎ, নিরপেক্ষ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কাজ চলছে। তবে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত কার্যক্রমে যুক্ত বা সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে পেশাদার কর্মকর্তাদেরই পদায়ন করা হবে। পাশপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতি বঞ্চিত অভিজ্ঞ (অবসরে থাকা) কয়েকজন কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনে সম্পৃক্ত করতে পারে।


ইতিমধ্যে এসব কর্মকর্তাদের পিডিএস পর্যালোচনা করে খসড়া তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। দলনিরপেক্ষ ও পেশাদারদের তালিকা প্রণয়ন করে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও শীর্ষ আমলারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী আমলাদের বিভিন্ন সভায়ে একাধিকবার বলেছেন, অতীতের মতো নয়,সকলকে নিয়ে পেশাদারত্বকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে। দেশের উন্নয়ন করতে হলে সকল ভেদাভেদ ভুলে থাকতে হবে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন আমলা এখনো জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন-এমন অভিযোগ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের পরও তারা নিজেদের অবস্থান অক্ষুন্ন রেখে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের এ বলায় ভাঙ্গতে হবে বলে মনে করছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।


এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি বলেন, প্রশাসনে কাক্সিক্ষত গতি ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধ পরিকর। সরকারের নেওয়া ১৮০দিনের বিশেষ কর্মসূচি চলমান। এটিই শেষ হলেই প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো হবে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পেশাদারকে প্রধান্য দিয়ে সাজানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দক্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রশাসন সাজানো হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১৮ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমলাতন্ত্রকে পুরোপুরি রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছিল। সেখানে মেধাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। আমরা সবাই এ দেশেরই মানুষ। অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। সবশেষে জনগণের স্বার্থই আমাদের মূল ফোকাস।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসন ছিল একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত। তাদের অনুগতদের দিয়ে সাজানো প্রশাসনই পেয়েছে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনোত্তর একই বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি গঠিত নতুন সরকার। সেই প্রশাসন নিয়ে প্রশাসন পরিচালনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করে। নির্বচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই কর্মসূচি বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক হিসেবে সাড়া ফেলে। কিন্তু মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয ও বিভাগে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের পদায়নে থাকা কর্মকর্তাদের দ্বারা কাক্সিক্ষত গতি ফিরে আসেনি।


কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও দক্ষতার অভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বা নীতি নির্ধারণী সংক্রান্ত ফাইল উপস্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে। এতে করে সরকারের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বা করা হচ্ছে। ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাদারত্ব নিয়েও সরকারের বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ অনুষ্ঠানকালে দায়িত্বরত জেলা প্রশাসক (ডিসি)দের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আগামীতে আরো কিছু দুনীতিবাজ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হতে পারে। সরকারের একটি আমলা গ্রুপ চাইছে বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকা আর দীর্ঘায়িত না করতে। কারণ এখন পেশাদারত্ব বজায় রেখে সকলকে নিয়ে প্রশাসন পরিচালনা করতে চাইছে সরকার। অতীতের মতো দলীয় অনুগত্য নয়, দক্ষ, মেধা ও সততাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে। দেশের উন্নয়নার্থে প্রশাসনে গতি আনতে হবে। এজন্য পেশাদারত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পদোন্নতি ও পদায়ন করতে হবে। তা না হলে কর্মকর্তারা কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে পদ টিকিয়ে রাখতে দলবাজিতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।


গত ২৮ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অব্যান্তরীণ সমন্বয় সভায় কার্যপত্রে বলা হয়, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত কর্মপরিকল্পনা অনুয়ায়ী ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা যথাসময়ে অর্জন সম্পন্ন করতে হবে। সকল অনুবিবাগের নথির শ্রেনীবিন্যাস সম্পন্ন করে বিনষ্টযোগ্য নথির বিনষ্টকরণ কার্যক্রম নিয়মিত করা হচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ নথি বিনষ্ট করণের আগে স্ক্যান করে রংরক্ষণ করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবের উপর দ্রুততম সময়ে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। বিসিএস পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে শেষ করতে হবে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সকল দপ্তর ও সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামো হালনাগাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গবেষণা নীতিমালা দ্রুত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে বলা হয়েছে। বর্তমানে মোট ৮১ কর্মকর্তা সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন।


সরকারের সচিব বা সমমর্যাদাসম্পন্ন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২০ সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত রয়েছেন। সাম্প্রতিক খাদ্য, পরিবেশ, কৃষি বিপণন, ট্রেড মার্কস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ ১১ অধিদপ্তর ও সংস্থায় নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল নিয়োগ দেয়া হয়েছে।


গত ১৯ এপ্রিল সচিব পদমর্যাদায় এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ওয়াক্ফ প্রশাসক পদে তিনজন কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। তার আগে ১৬ এপ্রিল চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সাবেক সচিব আব্দুন নাসের খানকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, মেধাবী ও দক্ষ আমলাতন্ত্র গঠনের জন্য পেশাদার কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করতে হবে। এ কাজের জন্যও পেশাদার লোক দরকার। জনমুখী প্রশাসনের জন্য মেধা ও দক্ষতার পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত কর্মকর্তা প্রয়োজন।



কমেন্ট বক্স
notebook

দামুড়হুদার জয়রামপুর তালপুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু