জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা, জীবননগর ও মেহেরপুরের গাংনীতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে দলের নেতারা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
দামুড়হুদায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিকেল ৫টায় একটি গণমিছিল উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. নায়েব আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজুর রহমান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের যে আকাক্সক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, তা বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকর, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলন অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন।
এসময় উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল বাশার ও রফিকুল ইসলাম জিয়া, মাজলিসুল মুফাসসিরিনের জেলা সভাপতি মাওলানা আবুজার গিফারী, দর্শনা পৌর জামায়াতের আমীর শাহিকুল আলম অপুসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবেদুদ্দৌলা টিটোন।
অন্যদিকে, জীবননগর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিকেল সাড়ে ৫টায় জীবননগর থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. সাজেদুর রহমান, নাযেবে আমির মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ উপজেলা ও পৌর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এদিকে মেহেরপুরের গাংনীতে গাংনী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসস্ট্যান্ড চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির রবিউল ইসলাম বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে ইনসাফভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ, মাওলানা আব্দুর রহমান, পৌর জামায়াতের আমীর আহসানুল হক, সেক্রেটারি ওয়াস কুরুনী জামিল এবং বায়তুল মাল সম্পাদক জিল্লুর রহমান।
বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান।
তিন উপজেলায় আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে জামায়াতের উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন