বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গার পেনশন মেলার উদ্বোধনকালে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান

প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনকে পেনশন স্কিমে যুক্ত করুন
  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৬-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গার পেনশন মেলার উদ্বোধনকালে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান

‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ, নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। উদ্বোধনের পর তিনি মেলায় স্থাপিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।


দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। এ সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট মসজিদের পেশ ইমাম। এছাড়া গীতা পাঠ করা হয়।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি ট্রেজারি ফান্ডের মাধ্যমে জাতীয় পেনশন স্কিম পরিচালিত হবে। অনেকের মনে অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে এই অর্থ অত্যন্ত নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকবে। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা নিয়মিত সঞ্চয় করবেন এবং ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে পেনশন হিসেবে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।’


তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি ৬০ বছর বয়সের আগে মৃত্যুবরণ করলে তার নমিনিকে জমাকৃত অর্থ ও মুনাফাসহ ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়া আয়-রোজগারে পরিবর্তন এলে মাসিক চাঁদার পরিমাণ কমানো বা বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এ ধরনের পেনশন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত চার কোটি মানুষকে এই সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বার্ধক্যে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পেনশন স্কিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন সদস্যকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানাই।’


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান।
বক্তারা বলেন, সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দুই দিনের এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগও পাচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে মেলায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে চারটি কর্মসূচি রয়েছে। এগুলো হলো- প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা।


মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্র‍্যাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, অন্বেষা ফুড, আয়েশা’স ক্রাফট, মৃণালিনী, ফ্লোরেন বাই আফিয়া, রংতুলি, ক্রিমি কেক বাই নুসরাত, মালা ফুড হাউজ, ক্রাফট অ্যান্ড জুয়েলারি বাই আয়েশা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, বিকাশ ও নগদের স্টল স্থাপন করা হয়েছে। আলোচনা সভার ফাঁকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় কমিউনিটি বেজড একটিভেশন সভা