বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

করের আওতায় আসছে মুদি দোকানসহ ১৬ খাত

  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৬-২০২৬ ইং
করের আওতায় আসছে মুদি দোকানসহ ১৬ খাত

মুদি দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁসহ ১৬ ধরনের ব্যবসায়িক খাতকে নতুন অর্থবছরে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। নতুন প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে কি না- সেলিনা সুলতানার এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জি।’


তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যেসব ব্যবসায়িক খাতকে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো হল- মুদি দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিক্সের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালী পণ্য এবং জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রেতা।


এছাড়া পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্নিচার, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং রেস্তোরাঁকেও এ পরিকল্পনার আওতায় রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করেন। খুচরা দোকানিদের কাছ থেকে ভ্যাট নিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কর নেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয় তার প্রস্তাবিত অর্থবিলে। তবে এর পরিমাণ এখনও স্পষ্ট হয়নি। এছাড়া খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে দুই টাকা কর কেটে রাখার বিধান প্রস্তাব করা হয় বাজেটে।


মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ :
আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বুধবার বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন লিখিত প্রশ্ন টেবিলে উত্থাপিত হয়। বিকাল তিনটায় শুরু হওয়া জাতীয় সংসদের বৈঠকে এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রসঙ্গত, বিবিএস এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।
নওগাঁ-৩ আসনের এমপি মো. ফজলে হুদা তার প্রশ্নে জানতে চান- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও উত্তরাঞ্চলের অনুন্নত এলাকাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ কোনো বরাদ্দ রাখা হয়েছে কিনা? জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষা এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নকে বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছে। সেই লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির কার্যকর সমন্বয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’


দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সমীক্ষায় বরাদ্দ ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা :
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে চলতি বাজেটে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নুরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের মধ্যবর্তী স্থানে বহুল প্রতীক্ষিত ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’ নির্মাণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছি কি না, না থাকলে কারণ কী?
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুত উল্লেখযোগ্য প্রকল্প। বর্তমানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে সেতু বিভাগের আওতাধীন সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় (সবুজ পাতা) ‘পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্তকরণের সুপারিশ করা হয়েছে।’
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’ নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে প্রকল্প নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার লক্ষ্যে সেতু বিভাগের আওতাধীন সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে (নিজস্ব অর্থায়ন) ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।


বাজেটে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি :
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বহিঃখাতের সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার কয়েকটি বিশেষ প্রস্তুতির ব্যবস্থা রেখেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বুধবার সংসদে চাঁদপুর-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো: জালাল উদ্দিনের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রফতানি বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহ সম্প্রসারণ এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের কারণে জ্বালানি, এলএনজি ও সারের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভর্তুকি সহায়তা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


মার্চ পর্যন্ত মোট বৈদেশিক ঋণ ৭৮.২২ বিলিয়ন ডলার :
গত মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৮২২ কোটি মার্কিন ডলার। গতকাল বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানান, বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ সহজ শর্তের এবং ৩৯ দশমিক ০৩ শতাংশ কঠিন বা বাণিজ্যিক শর্তের ঋণ। মন্ত্রী বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেন।


৪ মোবাইল কোম্পানির কাছে সরকারের বকেয়া ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা :
দেশের চারটি মোবাইল কোম্পানির কাছে সরকারের মোট রাজস্ব বকেয়া ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। গতকাল বুধবার সংসদ অধিবেশনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানান, লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, তরঙ্গ ফি, জরিমানা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল বাবদ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কাছে বকেয়া ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘টেলিটকের বকেয়ার মধ্যে ৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ইকুইটিতে (শেয়ারে) রূপান্তরের একটি আবেদন বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন।’ তিনি জানান, শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের কাছে মোট বকেয়া ৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা। মন্ত্রী আরও জানান, ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি বাবদ গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকার মধ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই কিস্তিতে মোট ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পরে ভ্যাট মামলায় এই মোবাইল ফোন অপারেটর আরও ৩৯২ কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করে। অর্থাৎ, বর্তমানে গ্রামীণফোনের কাছে নিট বকেয়া ৬ হাজার ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে হাইকোর্টে মামলা চলছে বলেও জানান মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় কমিউনিটি বেজড একটিভেশন সভা