বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মেহেরপুরে এয়ার ফ্লো মেশিনেও রক্ষা নেই, পচছে টন টন পেঁয়াজ

প্রশিক্ষণ ও ভর্তুকি পেয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ফল
  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০৫-২০২৬ ইং
মেহেরপুরে এয়ার ফ্লো মেশিনেও রক্ষা নেই, পচছে টন টন পেঁয়াজ

মাহাবুব আলম ও সোহাগ মন্ডল:
মেহেরপুরের মুজিবনগরে আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহার করে পেঁয়াজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না। সরকারি প্রশিক্ষণ ও ভর্তুকিতে পাওয়া এই মেশিন ব্যবহারের পরও সংরক্ষণাগারে টন টন পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।


জানা গেছে, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ এ প্রযুক্তি চালু করে। মেহেরপুর জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যার উৎপাদন প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার টন। এসব পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কৃষকদের এয়ার ফ্লো পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মুজিবনগর উপজেলায় প্রায় ৪০টি এবং পুরো জেলায় প্রায় ১০০টি মেশিন ভর্তুকিতে বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি মেশিনে প্রায় ৩০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব বলে জানানো হয়। তবে বাস্তবে সংরক্ষণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পেঁয়াজে পচন ধরছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। তারা বলছেন, এতে উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না, বরং ঋণের বোঝা আরও বাড়ছে।


মুজিবনগরের ভবেরপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আউয়াল জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি পাঁচ বিঘা জমির পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য একটি মেশিন নেন। কিন্তু প্রতিদিনই পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘সংরক্ষণ করতে গিয়ে উল্টো বড় ধরনের লোকসানে পড়েছি। এভাবে চলতে থাকলে ৫০০ মণ পেঁয়াজের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ একই উপজেলার কৃষক ফজলুল হক বলেন, দেশি তাহেরপুরী ও ভারতীয় সুখসাগর- দুই জাতের পেঁয়াজই তিনি সংরক্ষণ করেছেন। কিন্তু দুই ধরনের পেঁয়াজই পচে যাচ্ছে। বাছাই করে পুনরায় সংরক্ষণ করার পরও পচন বন্ধ হয়নি।


রামনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভালো দামে বিক্রির আশায় পেঁয়াজ কিছুদিন সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু সংরক্ষণাগারেই পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একাধিকবার কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেও কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।


এদিকে, মেহেরপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক আরিফ খান দাবি করেন, এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারে অধিকাংশ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তার অভিযোগ, নিম্নমানের মেশিন সরবরাহের কারণেই পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে। তবে তার এ বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুজিবনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন সরাসরি কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, কৃষকদের এক থেকে দুই মাস পেঁয়াজ সংরক্ষণে সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রণোদনার আওতায় মেশিন বিতরণ করা হয়েছে এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন প্রযুক্তি হওয়ায় এর ব্যবহার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। বিদ্যুৎ সমস্যা, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তারতম্য, সংরক্ষণ পদ্ধতির ত্রুটি বা রোগাক্রান্ত পেঁয়াজ একসঙ্গে রাখার কারণেও পচন হতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল এবং মানসম্মত সংরক্ষণাগার না থাকলে এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি কার্যকর হয় না। তাই এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরের শেখপাড়ায় রিকশাচালক হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ দুজন গ্রেপ্তার