ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ‘ভোট কেন্দ্রে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা’- এই ঘোষণা দিয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
জেলা প্রশাসক জানান, চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনে (চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২) মোট ৩৫৪টি ভোট কেন্দ্রের সবকটিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১২৬টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী, র্যাব ও আনসার সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। বিজিবি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ৮ প্লাটুন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ২ প্লাটুনসহ মোট ১০ প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া জেলাজুড়ে ৭ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৪টি র্যাব টিম এবং ব্যাটালিয়ন আনসারের ৪টি টিম কাজ করবে। ৩৫৪টি কেন্দ্রের জন্য ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। সেনাবাহিনী ও বিজিবির রিজার্ভ টিমও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে।
নির্বাচনী মালামাল রক্ষা ও দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতা বন্ধে জেলায় ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ইটভাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তেলের পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রি সীমিত করা হয়েছে এবং ভোটের সময় তা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হতে পারে। জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন নির্বাচনী এলাকায় চলাচল করতে পারবে না। তবে নির্বাচনী প্রতীকহীন ‘হ্যান্ড রিকশা’ চলাচলে বাধা থাকবে না।
আগামী ১২ তারিখ সকাল ৭:৩০টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪:৩০টা পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের পর সীমানার ভেতরে ভোটার উপস্থিত থাকলে তাদের ভোট নেওয়া হবে। ভোটের দিন কেন্দ্র থেকে ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসবে এবং পরদিন সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। জাল ভোট রোধে কঠোর নজরদারি থাকবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।
জেলা প্রশাসক জানান, কেন্দ্রের আশেপাশে কোনো ধরনের জটলা বা খাবারের দোকান খোলা রাখা যাবে না। নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে রিজার্ভ ফোর্স থেকে তাৎক্ষণিক বিকল্প লোক নিয়োগ করা হবে। ভোটারদের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা চাইলে যেকোনো একটি ভোট (সংসদ নির্বাচন বা গণভোট) দিতে পারেন অথবা উভয়টিই দিতে পারেন। এটি নাগরিকের সম্পূর্ণ নিজস্ব স্বাধীনতা।’
মতবিনিময় সভায় চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম. তারেক-উজ-জামান, সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল নাঈম, জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলী উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক আকবর, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম, সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় জেলা প্রশাসক সকলের সহযোগিতায় একটি উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক