শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় মসজিদের ভেতর বিএনপি নেতার ওপর জামায়াতের হামলা

আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, থানায় পৃথক অভিযোগ
  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০২-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় মসজিদের ভেতর বিএনপি নেতার ওপর জামায়াতের হামলা

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নূরনগর কলোনীপাড়ায় মসজিদে দোয়া পড়ানোকে কেন্দ্র করে মহল্লা বিএনপি নেতার ওপর জামায়াতে ইসলামী নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার বেলা দুইটায় জুম্মার নামাযের পর নূরনগর কলোনীপাড়ার পূর্বপাড়া নতুন মসজিদে ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনায় আহত হন নূরনগর কলোনীপাড়ার বাবর আরীর ছেলে মনজুর আলী (৫৬)। তিনি ওই মহল্লার বিএনপির সেক্রেটারি। 


আহত মনজুর আলী বলেন, ‘জুমার নামাজের আগে আমি ইমামকে তারেক জিয়ার জন্য দোয়া করার অনুরোধ করি এবং ইমাম এতে সম্মত হন। তবে নামাজ শেষে দোয়া না পড়ানো হলে আমি বিষয়টি জানতে চাই। এসময় হঠাৎ জামায়াতের ৫০ জন নেতা-কর্মী আমার ওপর হামলা করে মসজিদের ভেতরেই। মোস্তফা, হাফিজুর, বাবু, মাফুজ, মজনু, খবাসহ আরও অনেকে মিলে আমার ওপর হামলা করে। পরবর্তীতে আমার জামাই আমাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করে।’ 


হাসপাতালে আহত মনজুর আলীকে দেখতে ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ। এসময় তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পরপরই চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে টার্মিনাল দখল, প্রতিটা মহল্লায় মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়েছে ওরা (জামায়াত)। এবং আমাদের নেতা-কর্মীদের সাথে পায়ে পা দিয়ে ঝামেলার চেষ্টা করেছে। এবং তারা আমাদের আসমানখালীতে যে দলীয় অফিস ছিল, সেটা ভাঙচুর করেছে, চিৎলা ও মাখালডাঙ্গা অফিসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমরা এখনো অবদি চুপচাপ আছি। কিন্তু আজ কলোনীপাড়ায় মসজিদে আমাদের একজন কর্মী ইমামকে দোয়া পড়ানোর জন্য বললে তাকে মেরে আহত করে, এখন সে হাসাপাতালে ভর্তি। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে এবং ডিসি-এসপি সাহেবকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ঠিক করার জন্য অনুরোধও করছি বারবার। যদি আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি থাকে, তবে আমরা আমাদের নেতা-কর্মীদের কীভাবে কন্ট্রোল করব, বলতে পারছি না। আমি জেলার সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনকারীকে অনুরোধ করব, যত দ্রুত সম্ভব আইনশৃঙ্খলা সক্রিয় করে। সমাজে যেন আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। এবং আমরা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করেছি। নির্বাচনে এবং নির্বাচনের আগে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আমরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো আশঙ্কা করি, বিগত দিনের যে ফ্যাসিস্ট সরকার ছিল, তাদের কাছ থেকে। কিন্তু এখন আমরা উপলব্ধি করছি, এরা ফ্যাসিস্টের চাইতেও বেশি হিংসাত্মক ও হিংস্র। এমন পরিস্থিতি যদি সৃষ্টি করতে থাকে, তবে আমাদের নেতা-কর্মীরাও ঘরে বসে থাকবে না। এ জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করছি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’


চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকেই দুটি পৃথক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।



কমেন্ট বক্স