শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কোর কমিটির সদস্যদের সাথে প্রার্থীদের মতবিনিময়

ভোট জালিয়াতি ও গুজব রোধে কঠোর বার্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার
  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০২-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কোর কমিটির সদস্যদের সাথে প্রার্থীদের মতবিনিময়

চুয়াডাঙ্গায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা আইনশৃঙ্খলা কোর কমিটির সদস্য ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রার্থীদের আশঙ্কা, দাবি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।


প্রার্থীদের আশঙ্কা ও নিরপেক্ষতার দাবি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান বিগত ১৭ বছরের ভোট জালিয়াতির সংস্কৃতির অবসান দাবি করে বলেন, ‘১৭ বছর আমাদের সমাজে যেটা হয়ে আসছে সেটা আর হতে দেওয়া যাবে না। দিনের ভোট রাতে হওয়া, ভোট চুরি, পোলিং এজেন্টদের টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া, এমন লোক সমাজে কিন্তু এখনো আছে। আমরা যারা প্রার্থী আছি, আমরা ভোটটা একটা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপান্তরের চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন আপনাদের প্রশাসনিক ভাবে বিগত ১৭ বছর যে দুর্নীতি করা হচ্ছিলো, যারা এর সাথে জড়িত ছিলো তাদের চিহ্নিত করুন এবং আপনারা আমাদের নিশ্চয়তা দিন যে বিগত বছরের মতো তারা এমন এই দুর্নীতি করবে না।


তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অনেকে বলেছেন, পোলিং ও প্রিজাইডিং অফিসারদের নাম ঘোষণা করার জন্য। আমি ব্যক্তিগতভাবে এর বিরোধিতা করব। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমরা প্রার্থীরা যেন কারোর নামের তালিকা না পাই। কারণ নাম প্রকাশ হলে তাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চলবে। এমনটা হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসন কঠোরভাবে চলুক এটাই আমরা চাই। আমরা পক্ষপাতিত্ব চাই না, আমরা নিরপেক্ষতা চাই।’


তিনি আরও বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে যে অমুছনিয় কালি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেটা আপনারা পরীক্ষা করে দেখবেন যে ওটা লাগানোর পর মোছা যায় কি না বা ব্যালট পেপারে সিল মারার পর সিলটা সাথে সাথে শুকিয়ে যায় কিনা। আমাকে এই বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত করবেন। আমার নির্বাচনী মার্কাটা সবার নিচে, সিল মারার সাথে সাথে কালিটা না শুকালে, সিল মারার পর কাগজ ভাজ করলে কালিটা অন্য মার্কায়ও লাগার সম্ভাবনা থাকে। তখন ভোটটা বাতিল হয়ে যাবে।’


এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলী বলেন, ‘একটা সিল যখন কোথাও লাগবে, সেটা অবৈধ করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এখনকার মার্কিং সিলে ঘর কাটা থাকবে, ঐ ঘরকাটা সিল যেখানে পড়বে সেটাই বৈধ।’




চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাড. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমাদের আশঙ্কা থাকতেই পারে যে প্রিজাইডিং অফিসাররা দুর্নীতি করতে পারে। তবে যদি আমার কোনো অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, আপনি যদি তালিকা না দেন, তবে আমাকে তো ওটাই চূড়ান্ত ভাবে নিতে হবে। এবং আপনারা কি এখনো আশঙ্কা করেন, যে প্রিজাইডিং অফিসারদের দ্বারা কোনো দুর্নীতি হতে পারে।? এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা এমন কোনো আশঙ্কা করছি না।’


চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘আপনারা পোলিং এজেন্টদের ট্রেনিং দেওয়ার সময় বলেছেন, কেন্দ্রে যে পোলিং এজেন্টগুলো থাকবে, তারা সবাই নারী এজেন্ট থাকবে। তবে আমি চাচ্ছি আমরা ভোট শেষ করার পর, দুইটা ব্যালট গণনার জন্য অনেক সময় লাগবে। একজন মেয়ের যদি এই গণনার শেষ সময় অবধি থাকা লাগে তবে নানান সমস্যা তৈরি হতে পারে, তাই আমি চাচ্ছি শেষ অবধি যিনি থাকবেন উনি যেন পুরুষ হন।’


এ বিষয়ে ডিসি বলেন, ‘আপনার পক্ষ থেকে যদি কেউ নাও থাকে তবুও কোনো সমস্যা নেই। আপনি পুরুষ এজেন্ট রাখতে পারবেন’। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘ভোটের মাঠে যদি কেউ ভেজাল করার চেষ্টা করে, তবে সে গ্রেপ্তার হয়ে যাবে সাথে সাথে। প্রিজাইডিং বা পোলিং এজেন্টও যাতে কোনো উল্টাপাল্টা কাজ করতে না পারে, এজন্য ক্যামেরা লাগানো আছে। এবং পুলিশদের বডি ক্যামেরা এবং ড্রোন ও থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের মাঠে দুষ্টুমি করে পার পাওয়ার সুযোগ নাই। বাইরে থেকে আমাদের যদি কেউ মিসলিড করেন, বা কোনো ভুল তথ্য দেন, আমরা আগে সেটা ভেরিফাই করবো তারপর অ্যাকশন নিবো। আমরা কোনো খবর পাওয়ার সাথে সাথে দৌঁড় দিবো না, আগে তথ্য যাচাই হবে তারপর আমরা যাবো। এবং ওই মুহূর্তে যদি ওখানে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে, তবে আমাদের তো আর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা এবার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।


এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম তারিক উজ জামান, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামান সজিব, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা শাখার সহসভাপতি জহুরুল ইসলাম আজিজি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী কর্মকর্তাগণ ও সাংবাদিকবৃন্দ।

ভিডিও দেখতেে এখানে ক্লিক করুন



কমেন্ট বক্স